ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামপাল রোমজাইপুরে নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের রোমজাইপুর থেকে উড়াবুনিয়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় নদীভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) সকালে রোমজাইপুরবাসীর উদ্যোগে রোমজাইপুর পূর্বপাড়া ঘোষিয়া খালীর তীরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় ‘এখনই টেকসই বেড়িবাঁধ চাই’, ‘জীবনের বিনিময়ে ফেরি পাচ্ছি, আমাদের চাই টেকসই বাঁধ’, ‘আমাকে বিক্রি করো, কিন্তু বাঁধ দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে রোমজাইপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। ইতোমধ্যে বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীর তীব্র স্রোত ও জাহাজ চলাচলের ঢেউয়ে ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে। পাশাপাশি নদী খননের নামে অপরিকল্পিত কাজের কারণেও পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। ভাঙা সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান তারা।

মানববন্ধনে পেড়িখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বয়জিৎ শেখ বলেন, বছরের পর বছর ধরে এলাকাটি নদীভাঙনের কবলে রয়েছে। বহু পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়েছে। দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মহিলা ইউপি সদস্য রিনা বেগম হিনা বলেন, প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রোমজাইপুরের অস্তিত্ব মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে।

স্থানীয় উদ্যোক্তা ফিরোজ মাঝি বলেন, নদীভাঙনের কারণে মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও বলেন, শুধু বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলেই হবে না; নদীভাঙনে যারা ঘরবাড়ি, জমি ও সম্পদ হারিয়েছেন, সরকারকে তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে এলাকাটি পুনরায় পরিদর্শন করা হবে। পরিদর্শনের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

রামপাল রোমজাইপুরে নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের রোমজাইপুর থেকে উড়াবুনিয়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় নদীভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) সকালে রোমজাইপুরবাসীর উদ্যোগে রোমজাইপুর পূর্বপাড়া ঘোষিয়া খালীর তীরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় ‘এখনই টেকসই বেড়িবাঁধ চাই’, ‘জীবনের বিনিময়ে ফেরি পাচ্ছি, আমাদের চাই টেকসই বাঁধ’, ‘আমাকে বিক্রি করো, কিন্তু বাঁধ দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে রোমজাইপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। ইতোমধ্যে বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীর তীব্র স্রোত ও জাহাজ চলাচলের ঢেউয়ে ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে। পাশাপাশি নদী খননের নামে অপরিকল্পিত কাজের কারণেও পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। ভাঙা সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান তারা।

মানববন্ধনে পেড়িখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বয়জিৎ শেখ বলেন, বছরের পর বছর ধরে এলাকাটি নদীভাঙনের কবলে রয়েছে। বহু পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়েছে। দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মহিলা ইউপি সদস্য রিনা বেগম হিনা বলেন, প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রোমজাইপুরের অস্তিত্ব মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে।

স্থানীয় উদ্যোক্তা ফিরোজ মাঝি বলেন, নদীভাঙনের কারণে মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও বলেন, শুধু বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলেই হবে না; নদীভাঙনে যারা ঘরবাড়ি, জমি ও সম্পদ হারিয়েছেন, সরকারকে তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে এলাকাটি পুনরায় পরিদর্শন করা হবে। পরিদর্শনের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।