থানায় লিখিত অভিযোগ, তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পুলিশের
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বারুইপাড়া গ্রামে আদালতের রায় অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের চারজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সোহেল রানা রামপাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বারুইপাড়া মৌজার এসএ খতিয়ান নং-২৫৯, দাগ নং-২২৬৮-এর মোট ৫.৮৬ একর জমির মধ্যে ২.০৮ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে সোহেল রানার পিতা শেখ সালাম রামপাল সহকারী জজ আদালতে বাটোয়ারা মামলা (মামলা নং-২৮/১৩) দায়ের করেন। গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আদালত ওই মামলার রায় শেখ সালামের পক্ষে প্রদান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে ওই জমিতে প্রবেশ করে সীমানার বেড়া কেটে দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী বাধা দিলে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এক পর্যায়ে সোহেল রানার স্ত্রীর গলায় থাকা প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ধারালো দা দিয়ে হামলারও চেষ্টা করা হয়। এরপর থেকে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে অভিযোগে নাম থাকা শেখ সাহিদুল ইসলাম বলেন, “হুমায়ুন, ইনছানসহ কয়েকজন দা-কোদাল নিয়ে বেড়া কাটছিল। বাধা দিলে হামলার চেষ্টা করে। নাসরিন সোহেলের স্ত্রীর গলার স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নেয়।”
আরেক সাক্ষী খান জিন্নাত আলী বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহেলকে রক্ষা করি। পরে অভিযুক্তরা আমাদেরও গালাগাল করে চলে যায়।”
অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে বারুইপাড়া গ্রামের হাওলাদার হুমায়ুন (৮০), মোসা. নাসরিন বেগম (৩৫), ইনছান হাওলাদার (৬৩) ও ফারিয়া বেগমকে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মোসা. নাসরিন বেগম বলেন, “অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বরং সোহেল রানারাই আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছেন। আমরা আদালতের রায় মেনেই চলছি। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে হয়রানি করা হচ্ছে।”
অপর অভিযুক্ত হাওলাদার হুমায়ুনও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।
এ বিষয়ে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজীব আল রশিদ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরিফ হাসান গজনবী, রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: 



















