ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ৪ নম্বর লেহেম্বা ইউনিয়নের কোচর গ্রামে সংঘটিত একটি চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের একটি অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে কোচর গ্রামের বাসিন্দা তপন চন্দ্র রায় (৩৯) বাড়িতে তালা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাশের বাড়িতে বড় ভাই সুকুমার রায়ের বাড়িতে মনসার গান শুনতে যান। রাত প্রায় ১২টার দিকে বাড়ি ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, বাড়ির ভেতর থেকে দরজা আটকানো রয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরে প্রবেশ করে দেখা যায়, তিনটি কক্ষের তালা ভেঙে আলমারিতে থাকা মূল্যবান মালামাল চুরি হয়েছে।
চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল প্রায় ২ ভরি স্বর্ণের অলঙ্কার, ৪ ভরি রুপার অলঙ্কার, একটি স্যামসাং স্মার্টফোন এবং নগদ ৪ হাজার টাকা।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী তপন চন্দ্র রায় রাণীশংকৈল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে।
ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন-এর সার্বিক নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান-এর তত্ত্বাবধানে রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী-এর নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে ১১ জুলাই ২০২৬ (শনিবার) ভোর ৪টার দিকে রাণীশংকৈল থানা পুলিশের এসআই রতন সঙ্গীয় ফোর্সসহ পীরগঞ্জ উপজেলার শাশোর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মো. গিয়ান আলী (১৯), পিতা- মৃত জিয়ারুল ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ ভরি স্বর্ণের অলঙ্কার এবং ৪ ভরি রুপার অলঙ্কার উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত আসামির চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চোরচক্র জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, চুরির ঘটনার পরপরই আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে মূল সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার ও চুরি হওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান বলেন, অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সবসময় প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ঘটনাতেও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে দ্রুত অগ্রগতি এসেছে। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় জেলা পুলিশ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। যে কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলায় অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। চুরি, ডাকাতি, মাদকসহ যেকোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চুরি হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার স্টাফ রিপোর্টার 



















