মেয়েরাও এখন কোনো কাজে পিছিয়ে নেই। সময় এসেছে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মল্লিকা খাতুন গণঅধিকার পরিষদ সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব। এমএসসি পাস এই নারী সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের রুপেরবেড় গ্রামের আমজাদ হোসেনের মেয়ে।
মল্লিকা খাতুন বলেন, আমি সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান। জনসেবার ব্রত নিয়ে রাজনীতিতে এসেছি। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের কল্যাণে কাজ করতে চাই। নির্বাচনে জয়ী হলে নদীভাঙন, কৃষিক্ষেত্রে আধুনিকায়ন ও চরাঞ্চলের উন্নয়নসহ সর্বোপরি ভাঙনকবলিত এ অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের ইলোরা খাতুন জেএসডির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও শাহজাদপুর উপজেলার আহ্বায়ক। অর্থনীতিতে অর্নাস ও মাস্টার্স পাস এই প্রার্থী শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা মহল্লার আব্দুস সাত্তারের মেয়ে।
ইলোরা বলেন, মেঝ ভাই জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাবা, দাদা ও শ্বশুর একাধিকবার এলাকার ইউপি সদস্য ছিলেন। তাদের অনুপ্রেরণায় রাজনীতিতে এসেছি। এখন সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই।
জয়পুরহাট-১ আসনে বাসদের প্রার্থী তৌফিকা দেওয়ান লড়ছেন কাঁচি প্রতীক নিয়ে। তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরেও এই দেশের কৃষকের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন সংগঠিত করতে চাই। জয়পুরহাটে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে তারা যাতে কৃষিভিত্তিক একটা সমাজ নির্মাণের জন্য তারা তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে সেই লড়াইটা আমি চালিয়ে যেতে চাই।
একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ওই পদ থেকে অপসারণ করা হয় তাঁকে। এরপর তিনি এমপি প্রার্থীর ঘোষণা দিয়ে মাঠে গণসংযোগ করছেন।
সাবেকুন নাহার বলেন,‘নারী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করা আমাদের সমাজে অনেক কঠিন। নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। মুখে যতই বলা হোক, নারীর ক্ষমতায়ন এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নারীরা যে স্বাধীনভাবে কাজ করবে, সে পরিবেশ এখনো গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, বিগত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পাঁচবিবি উপজেলাবাসী আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিল। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। তাই এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য পদে মাঠে নেমেছি। নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস দমন ও বেকার সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই প্রার্থী।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বাসদের প্রার্থী অ্যাড. দিলরুবা নুরী বগুড়া জেলা বাসদের সদস্যসচিব। বগুড়া জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী তিনি।
এ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান, শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান (সোহেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নুরী বলেন, আমি একজন প্রার্থী হিসেবেও ভাবলেও একটি দলের প্রধানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি এটা কম কী। তবে আমি আশাবাদী।
(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ও বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলা প্রতিনিধিরা)
অনলাইন ডেস্ক 



















