রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার মাল্লাপট্রি ব্রিজ সংলগ্ন , ড্রামপিং প্রকল্পের ১ কোটি ৫২ লাখ টাকার সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা বলছেন, এই প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে রাতের অন্ধকারে পাথরের সাথে ইটের রাব্বিস খোয়া মিক্স করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে ফেজবুকে ভাইরাল হয়েছে। পরে স্থানীয়দের তোপের মুখে পাথর থেকে ইটের খোয়া সড়িয়ে নিতে বাধ্য হন এই কর্মকর্তা। এনিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা বিতর্ক।
জনস্বার্থ প্রকৌশল অফিস সুত্রে জানা যায়— ঢাকার মহাখালি ৩০ পৌরসভার অধীনস্থ, চাঁর মাস মেয়াদি কাজটি পেয়েছেন বিসমিল্লাহ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এর প্রোপাইটর মোঃ মনজুর মোল্লা। এই প্রতিষ্ঠানের আওতায় চলতি বছরের ২১শে জানুয়ারী-২৬, কাজটি শুরু হয়ে একই বছরের ২১শে এপ্রিলের মধ্যে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিলো।
কিন্ত নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে ৪ মাস অতিবাহিত হলেও,নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে, এখন শেষ হয়নি কাজ। শুধু বারবার ঠিকাদার পরিবর্তন হয়েছে। অথচ কোন ঠিকাদারই কাজ করেনি। সবাই শুধু হাত বদল করেছে,আর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই হাত বদল নামক নাটকের মুলে রয়েছে জনস্বার্থ প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম। শুরু তাই নয়,এই কর্মকর্তা সরকারি নিয়ম অপেক্ষা করে কাজের এস্টিমেট বা নকশা (ডিজাইন) পরিবর্তন করে নিজের ইচ্ছে মত কাজ করে, মোটা অংকের অর্থ লোপাট করেছেন।স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন পাথরের মধ্যে ইটের খোয়া মিক্স করে ঢালাই দেওয়া। সিলেক্টশন বালুর সাথে ভরাট বালু ও অল্প সিমেন্ট মিক্সড করে, নম্বর বিহীন ইট দিয়ে গাইড ওয়াল তৈরী করা। গাইড ওয়ালের বেশিরভাগ খুঁটিতে রড না দেওয়া। ১২ মিলি রডের পরিবর্তে ৮ মিলি রড দেওয়া। খুটিতে চারটা রডের পরিবর্তে তিনটা রড দেওয়া। খুটির সাইজ ১২ ফুট হওয়ার পরিবর্তে ৮ ফুট হওয়া। গাইড ওয়ালের খুটিতে পাঁচ মিশালি রড দেওয়া সহ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে, একাধিক বার স্থানীয় জনগনের সাথে তর্কবিতর্কের জেরে রাস্তার কাজ বন্ধ হয়েছে। কিন্তু তারপরও কাজের গুনগত মানের কোন পরিবর্তন হয়নি। ফলে এখনই গাইড ওয়ালের খুঁটিতে ফাঁটল ধরেছে। কোন কোন জায়গায় রাস্তা নিয়ে গাইড ওয়াল ভেঙ্গে ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
অথচ, এতকিছুর পরও অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, এই জনস্বার্থ কর্মকর্তা বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে বহাল তবিয়তে নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রিক দিয়ে এখনও চলমান রয়েছে রাস্তার কাজ।শুশীল সমাজের লোকেরা বলছেন, এই কাজ ৩ মাসের বেশি ঠিকার কথা নয়। কাজের গুনগত মান এতটাই খারাপ হয়েছে, যেকোন সময় গাইড ওয়াল ধ্বসে পড়ে, বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে পাথরের সাথে ইটের রাব্বিস খোয়া মিক্স করার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত গোয়ালন্দ উপজেলা জনস্বার্থ প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে ভুল বসত শ্রমিকেরা পাথরের সাথে ইটের রাব্বিস খোয়া মিক্স করেছিল। আমি সেটা সড়িয়ে দিয়েছি। আর সরকারি নকশায় কাজ করলে কাজটা বেশিদিন টেকসই হতো না। তাই কাজের এস্টিমেট বা নকশা (ডিজাইনে) কিছুটা পরিবর্তন করছি। নিজেকে নির্দোষ দাবী করে তিনি আরও, কাজে কোন অনিয়ম হয়নি। আমি কোন টাকা আত্মসাৎ বা অনিয়ম করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, গুজব।
আর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে, কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন ৩০ পৌরসভার ডিপিডি মাহমুদ টিপু। তিনি বলেন, ড্রামপিং প্রকল্প সহ রাস্তার কাজে কোন অনিয়ম হলে জরিতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নেওয়া হবে বিভাগীয় ব্যবস্থা।
রাজবাড়ীতে দেঁড় কোটি টাকার সড়কে কারসাজি, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ
-
হারুন রশিদ শেখ স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক বাংলার সংবাদ - আপডেট সময় : ০৪:২৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 25
জনপ্রিয় সংবাদ




















