ঢাকা ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাঙ্গুনিয়া ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পরিদর্শনে পুলিশ সুপার: মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

প্রতিকূল আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা, নবগঠিত দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা ও সরফভাটা পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম। পরিদর্শন শেষে তিনি স্থানীয় জনসাধারণের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর বার্তা দেন।

আজ (০৯ জুলাই) দিনব্যাপী এই পরিদর্শনের সময় পুলিশ সুপার থানা ও পুলিশ ক্যাম্পের সার্বিক কার্যক্রম, ব্যারাক, ডাইনিং, অস্ত্রাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম ও সুযোগ-সুবিধার খোঁজখবর নেন এবং লজিস্টিক ও যৌক্তিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। একই সাথে জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন।

ক্ষেত্র বাজারে জনসাধারণের সাথে মতবিনিময়
থানা পরিদর্শন শেষে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন ক্ষেত্র বাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এলাকার সাধারণ মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

মুক্ত আলোচনায় স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার প্রধান প্রধান আইন-শৃঙ্খলাজনিত সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:

মাদকের বিস্তার ও বেচাকেনা রোধ।

কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধ করা।

চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্মূল।

এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা।

বাসিন্দারা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে পুলিশ সুপারকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন এবং অপরাধ দমনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

‘অপরাধী যে-ই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না’
জনসাধারণের বক্তব্য শোনার পর পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন—

“অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আইন তার নিজের গতিতেই চলবে। অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তি যে-ই হোক না কেন, তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা
কার্যকর পুলিশিং নিশ্চিত করতে জনসাধারণের সহযোগিতাকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে এসপি বলেন, “অপরাধ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য নির্ভয়ে পুলিশকে জানান। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।” জনগণের জানমাল রক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেন।

উক্ত মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পরিদর্শনে পুলিশ সুপার: মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৭:০৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

প্রতিকূল আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা, নবগঠিত দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা ও সরফভাটা পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম। পরিদর্শন শেষে তিনি স্থানীয় জনসাধারণের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর বার্তা দেন।

আজ (০৯ জুলাই) দিনব্যাপী এই পরিদর্শনের সময় পুলিশ সুপার থানা ও পুলিশ ক্যাম্পের সার্বিক কার্যক্রম, ব্যারাক, ডাইনিং, অস্ত্রাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম ও সুযোগ-সুবিধার খোঁজখবর নেন এবং লজিস্টিক ও যৌক্তিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। একই সাথে জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন।

ক্ষেত্র বাজারে জনসাধারণের সাথে মতবিনিময়
থানা পরিদর্শন শেষে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন ক্ষেত্র বাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এলাকার সাধারণ মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

মুক্ত আলোচনায় স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার প্রধান প্রধান আইন-শৃঙ্খলাজনিত সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:

মাদকের বিস্তার ও বেচাকেনা রোধ।

কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধ করা।

চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্মূল।

এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা।

বাসিন্দারা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে পুলিশ সুপারকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন এবং অপরাধ দমনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

‘অপরাধী যে-ই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না’
জনসাধারণের বক্তব্য শোনার পর পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন—

“অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আইন তার নিজের গতিতেই চলবে। অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তি যে-ই হোক না কেন, তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা
কার্যকর পুলিশিং নিশ্চিত করতে জনসাধারণের সহযোগিতাকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে এসপি বলেন, “অপরাধ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য নির্ভয়ে পুলিশকে জানান। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।” জনগণের জানমাল রক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেন।

উক্ত মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।