ঢাকা ১২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রমজানে কুয়াকাটায় আগুনের তাণ্ডব, পথে বসার আশঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা

রমজানে কুয়াকাটায় আগুনের তাণ্ডব, পথে বসার আশঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে খাবার হোটেলসহ ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ভূস্মীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৩টি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বেরীবাঁধের বাইরে সমুদ্র সৈকত এলাকায় সীকুইন হোটেল ও শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির সংলগ্ন স্থানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

আগুনে পুড়ে যায় ২টি খাবার হোটেল, ২টি কাপড়ের দোকান, ১টি মুদি-মনোহরী দোকান, ১টি ঝিনুকের দোকান, ১টি জেনারেটরের দোকান ও ১টি চায়ের দোকান। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন- সালমা বেগম (হোটেল তিন কন্যা), নাসির হাওলাদার (বিসমিল্লাহ হোটেল), শহীদ সিকদার (ঝিনুকের দোকান), বেল্লাল হোসেন (কাপড়ের দোকান), মিলন (মুদি-মনোহরী দোকান), মিলন (জেনারেটরের দোকান) এবং একটি চায়ের দোকানের মালিক।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ কেউ দাবি করেন, মন্দিরের একটি কক্ষে রাখা লেপ-তোষক ও বালিশের পাশে জ্বালানো কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, কোনো খাবার হোটেল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে অধিকাংশ দোকান তালাবদ্ধ ছিল। একটি কক্ষে লোকজন থাকলেও তারা নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন এবং পাশের দোকানগুলোর মালামাল সরিয়ে নিতে সক্ষম হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটননগরী কুয়াকাটায় এখনো কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই। নিকটবর্তী কলাপাড়া সদর উপজেলা থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ফায়ার সার্ভিসকে আসতে হয়। তাই দ্রুত কুয়াকাটায় একটি স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

রমজান মাসে এমন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ, মহিপুর থানা পুলিশসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল হোসেন জানান, সকাল আটটার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানানো হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, রমজানের মধ্যে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

রমজানে কুয়াকাটায় আগুনের তাণ্ডব, পথে বসার আশঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ১১:৩৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে খাবার হোটেলসহ ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ভূস্মীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৩টি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বেরীবাঁধের বাইরে সমুদ্র সৈকত এলাকায় সীকুইন হোটেল ও শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির সংলগ্ন স্থানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

আগুনে পুড়ে যায় ২টি খাবার হোটেল, ২টি কাপড়ের দোকান, ১টি মুদি-মনোহরী দোকান, ১টি ঝিনুকের দোকান, ১টি জেনারেটরের দোকান ও ১টি চায়ের দোকান। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন- সালমা বেগম (হোটেল তিন কন্যা), নাসির হাওলাদার (বিসমিল্লাহ হোটেল), শহীদ সিকদার (ঝিনুকের দোকান), বেল্লাল হোসেন (কাপড়ের দোকান), মিলন (মুদি-মনোহরী দোকান), মিলন (জেনারেটরের দোকান) এবং একটি চায়ের দোকানের মালিক।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ কেউ দাবি করেন, মন্দিরের একটি কক্ষে রাখা লেপ-তোষক ও বালিশের পাশে জ্বালানো কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, কোনো খাবার হোটেল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে অধিকাংশ দোকান তালাবদ্ধ ছিল। একটি কক্ষে লোকজন থাকলেও তারা নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন এবং পাশের দোকানগুলোর মালামাল সরিয়ে নিতে সক্ষম হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটননগরী কুয়াকাটায় এখনো কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই। নিকটবর্তী কলাপাড়া সদর উপজেলা থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ফায়ার সার্ভিসকে আসতে হয়। তাই দ্রুত কুয়াকাটায় একটি স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

রমজান মাসে এমন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ, মহিপুর থানা পুলিশসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল হোসেন জানান, সকাল আটটার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানানো হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, রমজানের মধ্যে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।