একসময় শহরের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়েছে যশোরের গ্রামাঞ্চলেও। স্মার্টফোন, মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-ট্রানজেকশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠছে এজেন্ট চক্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে গ্রেপ্তার হলেও থামছে না এই অবৈধ ব্যবসা। সর্বশেষ শার্শা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এক নারীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
রোববার (১৯ জুলাই) রাতে শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের সাতমাইলের মোড়লপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে রুনা পারভীনকে আটক করা হয়। তিনি ওই গ্রামের নুরুল আমিনের মেয়ে।
ডিবি পুলিশ জানায়, সাতমাইল এলাকার দেলবার মণ্ডলের বাড়িতে কয়েকজন ব্যক্তি নিষিদ্ধ অনলাইন বেটিং সাইট ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা করছেন—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এসআই জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অন্যরা পালিয়ে গেলেও রুনা পারভীনকে আটক করা হয়।ডিবির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার কাছ থেকে বিভিন্ন আইএমইআই নম্বর ও সিমকার্ড সংবলিত দুটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এসআই জয়নুল আবেদীন বাদী হয়ে শার্শা থানায় মামলা করেন। সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।শুধু শার্শা নয়, উদ্বেগে মনিরামপুরসহ সারা যশোর অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৪ সালে মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর বাজারে অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনলাইন জুয়ার সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করার তথ্য দেয় বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
একই সময়ে স্থানীয় অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মনিরামপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। দ্রুত লাভের প্রলোভনে তরুণদের একটি অংশ এই চক্রে জড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে কেউ কেউ চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। এই নেটওয়ার্ক এতটাই বিস্তৃত এবং সদস্য উঠতি বয়সের বেকার ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরাও। শহরের টিবি ক্লিনিকপাড়া, ষষ্টিতলাপাড়া, পুলিশ লাইন কদমতলা, উপশহর এবং বকচর এলাকায় বিস্তার ঘটেছে বেশি। অনেকে দায়-দেনায় জড়িয়ে গণধোলাই খেয়েও থামেনি জুয়া থেকে। ঘরের গৃহবধুরাও স্বামীর সাথে পাল্লা দিয়ে জুয়ায় মেতেছে বলে অভিযোগ আছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন জুয়া এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সামাজিক ও পারিবারিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে। তাই অভিযানের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইন বেটিং ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
যশোরে শার্শা উপজেলায় নারী আটক, বিভিন্ন আইএমইআই নম্বর ও সিমকার্ড সংবলিত দুটি স্মার্টফোন উদ্ধার
-
নজরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার: - আপডেট সময় : ০৮:৪৭:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- 26
জনপ্রিয় সংবাদ




















