যশোরে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা-২০২৬। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে যশোর টাউন হল ময়দানে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, যশোরের যৌথ আয়োজনে বর্ণাঢ্য পরিবেশে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।
মেলার উদ্বোধন করেন যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান। তিনি ফিতা কেটে ও রঙিন বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, পরিবেশপ্রেমী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ।উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আশেক হাসান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ার একটি দায়িত্ব। একটি গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে।তিনি আরও বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিটি গাছকে সন্তানের মতো যত্ন নিতে হবে। আজকের একটি চারা গাছই আগামী দিনের বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়ে মানুষ ও প্রকৃতির উপকারে আসবে। সবুজায়ন বৃদ্ধি করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন নার্সারি ও উদ্যানপালন প্রতিষ্ঠানের স্টলগুলোতে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন ফল, অ্যাভোকাডো, অলিভ, চেরি, থাই পেয়ারা, বার্মিজ আঙুর, জাপানি পার্সিমন, ম্যাকাডেমিয়া, অর্কিড, বনসাই, ক্যাকটাস, এরিকা পাম, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নিম, অর্জুন, মেহগনি, সেগুন, দেবদারু, চন্দন, আগরসহ অসংখ্য দেশি ও বিদেশি প্রজাতির মূল্যবান গাছ।
মেলায় অংশ নেওয়া স্টল মালিকরা জানান, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিবছরই বৃক্ষপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়ছে। তারা বলেন, দেশি ফলদ ও বনজ গাছের পাশাপাশি বিদেশি ফলদ ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দর্শনার্থীদের শুধু গাছ বিক্রি নয়, গাছের সঠিক পরিচর্যা, রোগবালাই প্রতিরোধ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষের ভূমিকা সম্পর্কেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন। চারা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তারা জানায়, প্রাপ্ত গাছগুলো নিজ নিজ বাড়ির আঙিনায় বা উপযুক্ত স্থানে রোপণ করবে এবং নিয়মিত পরিচর্যা করবে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, “একটি গাছ আমাদের বিশুদ্ধ অক্সিজেন দেয়, পরিবেশকে শীতল রাখে, ফল, ফুল ও কাঠের চাহিদা পূরণ করে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। আমরা শুধু গাছ লাগাব না, বড় হওয়া পর্যন্ত এর যত্নও নেব।” অনেক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে আরও বেশি গাছ লাগানোর অঙ্গীকারও ব্যক্ত করে।
পরে জেলা প্রশাসক আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ অন্যান্য অতিথিরা মেলার প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন, স্টল মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা সবাই পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে আরও বেগবান করতেই এই সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি এবং বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
সপ্তাহব্যাপী চলা এ মেলায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীরা বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি গাছ সংগ্রহের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, গাছের পরিচর্যা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক নার্সারি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা-২০২৬ শুরু
-
নজরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার : - আপডেট সময় : ০১:০৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- 45
জনপ্রিয় সংবাদ




















