ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরের বসুন্দিয়ায় শিল্প বর্জ্যে বিপর্যস্ত পরিবেশ: বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ার দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

যশোরের বসুন্দিয়ায় শিল্প বর্জ্যে বিপর্যস্ত পরিবেশ: বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ার দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

যশোর সদর উপজেলার ১৫ নং বসুন্দিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বানিয়াগাতি গ্রামে অনিয়ন্ত্রিত শিল্প বর্জ্যের কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এলাকার একাধিক বৃহৎ শিল্প কারখানার বর্জ্য সরাসরি লোকালয়ে ও উন্মুক্ত স্থানে ফেলার কারণে বানিয়াগাতি গ্রামটি এখন সাধারণ মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​এরই প্রতিবাদে এবং এলাকাকে দূষণমুক্ত করার দাবিতে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ রাস্তায় নেমে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বানিয়াগাতি এলাকায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান কোনো প্রকার সঠিক বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা (ETP) ছাড়াই তাদের ক্ষতিকর ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য পরিবেশে অবমুক্ত করছে।
বিশেষ করে,প্যারাগন নারিস যশোর ফিড ও তালুকদার কারখানা সহ ফিড মিল ও পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট কারখানার তীব্র দুর্গন্ধ।

সিপি (বাংলাদেশ) এই মুরগির বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পচা ডিম, নষ্ট ও মৃত মুরগির বাচ্চা এবং পোল্ট্রি বর্জ্যের যত্রতত্র অপসারণ।
চায়না ফেক্টরী ও আছিয়া রাইসমীল এসব কারখানার রাসায়নিক ও ধোঁয়া-ছাই মিশ্রিত বর্জ্য।

​বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, পচা ডিম, পচা মুরগির বাচ্চা এবং ফিড কারখানার বর্জ্যের তীব্র ও অসহ্য দুর্গন্ধে বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকায় ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। নষ্ট হচ্ছে উর্বর কৃষিজমি এবং আশপাশের জলাশয়ের পানি।

​দূষণের হাত থেকে বাঁচতে এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার দাবিতে বানিয়াগাতি গ্রামের পুরুষ, নারী ও শিশুরা একত্রিত হয়ে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এই পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কারখানাগুলো ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছে, আর বর্জ্যের বিষে আমাদের জীবন বিষিয়ে উঠছে।অবিলম্বে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুসংহত না করলে এবং প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব

​স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই কারখানাগুলোর বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে বানিয়াগাতি গ্রামটি সম্পূর্ণ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

যশোরের বসুন্দিয়ায় শিল্প বর্জ্যে বিপর্যস্ত পরিবেশ: বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ার দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০১:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

যশোর সদর উপজেলার ১৫ নং বসুন্দিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বানিয়াগাতি গ্রামে অনিয়ন্ত্রিত শিল্প বর্জ্যের কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এলাকার একাধিক বৃহৎ শিল্প কারখানার বর্জ্য সরাসরি লোকালয়ে ও উন্মুক্ত স্থানে ফেলার কারণে বানিয়াগাতি গ্রামটি এখন সাধারণ মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​এরই প্রতিবাদে এবং এলাকাকে দূষণমুক্ত করার দাবিতে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ রাস্তায় নেমে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বানিয়াগাতি এলাকায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান কোনো প্রকার সঠিক বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা (ETP) ছাড়াই তাদের ক্ষতিকর ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য পরিবেশে অবমুক্ত করছে।
বিশেষ করে,প্যারাগন নারিস যশোর ফিড ও তালুকদার কারখানা সহ ফিড মিল ও পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট কারখানার তীব্র দুর্গন্ধ।

সিপি (বাংলাদেশ) এই মুরগির বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পচা ডিম, নষ্ট ও মৃত মুরগির বাচ্চা এবং পোল্ট্রি বর্জ্যের যত্রতত্র অপসারণ।
চায়না ফেক্টরী ও আছিয়া রাইসমীল এসব কারখানার রাসায়নিক ও ধোঁয়া-ছাই মিশ্রিত বর্জ্য।

​বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, পচা ডিম, পচা মুরগির বাচ্চা এবং ফিড কারখানার বর্জ্যের তীব্র ও অসহ্য দুর্গন্ধে বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকায় ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। নষ্ট হচ্ছে উর্বর কৃষিজমি এবং আশপাশের জলাশয়ের পানি।

​দূষণের হাত থেকে বাঁচতে এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার দাবিতে বানিয়াগাতি গ্রামের পুরুষ, নারী ও শিশুরা একত্রিত হয়ে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এই পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কারখানাগুলো ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছে, আর বর্জ্যের বিষে আমাদের জীবন বিষিয়ে উঠছে।অবিলম্বে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুসংহত না করলে এবং প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব

​স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই কারখানাগুলোর বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে বানিয়াগাতি গ্রামটি সম্পূর্ণ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।