ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান, জব্দের পর আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস শতাধিক অবৈধ জাল

 

১৭৪টি রিং জাল ও ৫২ পিস কারেন্ট জাল জব্দ, প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস

দেশীয় প্রজাতির মাছ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলায় একযোগে অবৈধ কারেন্ট জাল ও ক্ষতিকর ‘চায়না দুয়ারি’ (রিং জাল) বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দের পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নদ-নদী ও জলাশয়ে অবৈধ কারেন্ট জাল এবং চায়না দুয়ারির ব্যবহার, সংরক্ষণ, মজুদ ও বেচাকেনা বন্ধে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। দিনব্যাপী অভিযানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১৭৪টি রিং জাল (চায়না দুয়ারি) এবং ৫২ পিস অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত এসব ক্ষতিকর জাল স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান চলাকালে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ আহরণের দায়ে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক বলেন, “কারেন্ট জাল এবং চায়না দুয়ারির মতো ধ্বংসাত্মক জাল আমাদের নদ-নদীর দেশীয় মাছের রেণু ও প্রজননক্ষম মাছ একবারে নিধন করে ফেলছে। মৎস্যসম্পদ রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। আজ সব উপজেলায় একযোগে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অবৈধ জালের ব্যবহার বা ব্যবসার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযান নিয়মিত ও অব্যাহত থাকবে।”
জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় জেলার প্রতিটি উপজেলায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারির ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান ও তদারকি অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান, জব্দের পর আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস শতাধিক অবৈধ জাল

আপডেট সময় : ০৮:২৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

 

১৭৪টি রিং জাল ও ৫২ পিস কারেন্ট জাল জব্দ, প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস

দেশীয় প্রজাতির মাছ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলায় একযোগে অবৈধ কারেন্ট জাল ও ক্ষতিকর ‘চায়না দুয়ারি’ (রিং জাল) বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দের পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নদ-নদী ও জলাশয়ে অবৈধ কারেন্ট জাল এবং চায়না দুয়ারির ব্যবহার, সংরক্ষণ, মজুদ ও বেচাকেনা বন্ধে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। দিনব্যাপী অভিযানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১৭৪টি রিং জাল (চায়না দুয়ারি) এবং ৫২ পিস অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত এসব ক্ষতিকর জাল স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান চলাকালে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ আহরণের দায়ে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক বলেন, “কারেন্ট জাল এবং চায়না দুয়ারির মতো ধ্বংসাত্মক জাল আমাদের নদ-নদীর দেশীয় মাছের রেণু ও প্রজননক্ষম মাছ একবারে নিধন করে ফেলছে। মৎস্যসম্পদ রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। আজ সব উপজেলায় একযোগে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অবৈধ জালের ব্যবহার বা ব্যবসার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযান নিয়মিত ও অব্যাহত থাকবে।”
জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় জেলার প্রতিটি উপজেলায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারির ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান ও তদারকি অব্যাহত থাকবে।