ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেলান্দহে দপ্তরী কাম প্রহরীকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৪ নং নাংলা ইউনিয়নের ৮২ নং বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী মোঃ মমিনুল ইসলামকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি দীর্ঘ প্রায় ৮ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, ব্যক্তিগত সার্ভিস বুক ও হাজিরা খাতা সঙ্গে নিয়ে বিদেশে চলে গেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তাকে কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করা হলেও তিনি কোনো প্রকার জবাব দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক নোটিশ, তবুও অনুপস্থিত
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দপ্তরী কাম প্রহরীকে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য পর্যায়ক্রমে তিনবার নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি উপস্থিত হননি কিংবা লিখিতভাবে কোনো ব্যাখ্যাও দেননি বলে দাবি করা হয়েছে।
বেতন উঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে,
প্রধান শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন অনুপস্থিতি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।
ব্যাংক ঋণ নিয়ে প্রশ্ন,
বিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের একজন সহকারি শিক্ষিকা জনাবা তাসলিমা নাজনীন কে জামিনদার হিসেবে যুক্ত করে রুপালী ব্যাংক লিঃ (মেলান্দহ শাখা) থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে ছিলেন দপ্তরীকাম প্রহরী মোঃ মমিনুল ইসলাম।ঋণ নিয়ে তাহার দায়ভার সহকারী শিক্ষিকার উপর চাপিয়ে দিয়ে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য,
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন,
“মমিনুল ইসলামকে অসুস্থতার কারণে মাত্র তিন দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছিল আবেদনের ভিত্তিতে, কিন্তু মুখে বলেছিলেন কক্সবাজার ভ্রমণ করতে যাবেন। পরবর্তীতে তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসতে বললে তিনি মুঠোফোনে বলেন,আমি সিলেট টিপু সুলতানের মাজারে আছি। তাকে বারবার নোটিশ করা হয়েছে, কিন্তু তিনি কোনো প্রকার জবাব দেননি। বর্তমানে তার বেতন বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে যে অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
আইন কী বলে?
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি চাকরিজীবী কোনো কর্মচারী অনুমোদিত ছুটি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী কর্তব্যে অবহেলা, অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিতি এবং সরকারি নথিপত্রের অনিয়মিত ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এছাড়া সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখা বা অনুমতি ছাড়া সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
তদন্তের দাবি
স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
Show quoted text

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

মেলান্দহে দপ্তরী কাম প্রহরীকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

আপডেট সময় : ০৬:১৯:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৪ নং নাংলা ইউনিয়নের ৮২ নং বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী মোঃ মমিনুল ইসলামকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি দীর্ঘ প্রায় ৮ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, ব্যক্তিগত সার্ভিস বুক ও হাজিরা খাতা সঙ্গে নিয়ে বিদেশে চলে গেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তাকে কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করা হলেও তিনি কোনো প্রকার জবাব দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক নোটিশ, তবুও অনুপস্থিত
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দপ্তরী কাম প্রহরীকে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য পর্যায়ক্রমে তিনবার নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি উপস্থিত হননি কিংবা লিখিতভাবে কোনো ব্যাখ্যাও দেননি বলে দাবি করা হয়েছে।
বেতন উঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে,
প্রধান শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন অনুপস্থিতি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।
ব্যাংক ঋণ নিয়ে প্রশ্ন,
বিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের একজন সহকারি শিক্ষিকা জনাবা তাসলিমা নাজনীন কে জামিনদার হিসেবে যুক্ত করে রুপালী ব্যাংক লিঃ (মেলান্দহ শাখা) থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে ছিলেন দপ্তরীকাম প্রহরী মোঃ মমিনুল ইসলাম।ঋণ নিয়ে তাহার দায়ভার সহকারী শিক্ষিকার উপর চাপিয়ে দিয়ে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য,
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন,
“মমিনুল ইসলামকে অসুস্থতার কারণে মাত্র তিন দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছিল আবেদনের ভিত্তিতে, কিন্তু মুখে বলেছিলেন কক্সবাজার ভ্রমণ করতে যাবেন। পরবর্তীতে তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসতে বললে তিনি মুঠোফোনে বলেন,আমি সিলেট টিপু সুলতানের মাজারে আছি। তাকে বারবার নোটিশ করা হয়েছে, কিন্তু তিনি কোনো প্রকার জবাব দেননি। বর্তমানে তার বেতন বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে যে অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
আইন কী বলে?
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি চাকরিজীবী কোনো কর্মচারী অনুমোদিত ছুটি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী কর্তব্যে অবহেলা, অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিতি এবং সরকারি নথিপত্রের অনিয়মিত ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এছাড়া সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখা বা অনুমতি ছাড়া সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
তদন্তের দাবি
স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
Show quoted text