ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানাধীন জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামের আওলাদ হোসেন এর অপহরণ ও খুনের রহস্য উদঘাটন; ঘটনায় জড়িত ০৪ জন গ্রেফতার

 

গত ০৯-০৫-২০২৬ খ্রিঃ তারিখে আওলাদ হোসেন (৬৫) নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হলে তার ভাই গত ১০-০৫-২০২৬ খ্রিঃ তারিখে সিরাজদিখান থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন (যাহার জিডি নং- ৪৫৯)। এরপরই আওলাদ শেখ কে খোজাখুজি শুরু করে থানার একটি টিম। পরবর্তীতে ২৩-০৫-২০২৬ ইং তারিখে আওলাদ হোসেন শেখের ছোট ভাই বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে আওলাদ হোসেন শেখের স্ত্রী রানী বেগম (৩৭), মানিক বেপারী (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে জমি লেখার উদ্দেশ্যে আওলাদ হোসেন শেখকে জোর পূর্বক অপহরণ করে এই মর্মে একটি মামলা দায়ের করেন (সিরাজদিখান থানার মামলা নং ৩৬, তারিখ- ২৩/০৫/২০২৬, ধারা- ৩৬৪/৩৪ পেনাল কোড )।

মামলা রজুর পর গত ৩১-০৫-২০২৬ খ্রিঃ তারিখ মোশারফ হোসেন মানিক (৩০)কে নিজ এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে সাইফুল ইসলাম (৪২)কে গত ৩০/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ বেলা ১৫.৩০ ঘটিকায় সাভার এর একটি ডেইরী ফার্ম থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী সাইফুল ইসলামের দেয়া তথ্য মতে গত ৩০-০৬-২০২৬ খ্রিঃ তারিখ গভীর রাতে রিপন (৩৫) ও বিন-আমিন (৩৮)কে সিরাজদিখান থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে গ্রেফতার করা হয়। সাইফুল ও অন্যান্য আসামীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামের বোরহান বেপারির গরুর ফার্মের রান্না ঘর এর ভিতর থেকে পুতে রাখা অবস্থায় আওলাদ হোসেন শেখ এর লাশ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, ডিসিস্ট আওলাদ হোসেন প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর রানী বেগমকে বিয়ে করেন। রানী বেগম ও আওলাদের সংসারে কোন সন্তানাদি না হওয়ায় প্রায়শঃই ঝগড়াঝাটি হতো। আসামী মানিক বেপারী (৩০), রানী বেগমের ভগ্নিপতি। মানিক বেপারী বিভিন্ন সময় আওলাদ হোসেন এর নিকট থেকে টাকা-পয়সা নিতেন মর্মে জানা যায়। মানিক বেপারী ও রানী বেগম আওলাদ হোসেনকে তার জমিজমা রানী বেগমের নামে লিখে দিতে চাপ প্রয়োগ করতেন। কিন্তু আওলাদ হোসেন জমিজমা লিখে দিতে অস্বীকার করতেন এবং আরেকটি বিয়ে করবেন বলেও জানান। এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মানিক বেপারী ও রানী বেগম আওলাদ হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তারই ধারিবাহিকতায় ঘটনার দিন গত ০৯/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সন্ধ্যার পরে মানিক বেপারী ডিসিস্ট আওলাদ হোসেনকে চাইনপাড়াস্থ বোরহান বেপারীর গরুর ফার্মে ডেকে নিয়ে যায়। গরুর ফার্মের ঘরে এসময় বোরহান বেপারীর কাজের লোক সাইফুল ইসলাম এবং মানিক বেপারী উপস্থিত ছিলেন। আওলাদ হোসেনকে বিছানায় ফেলে সাইফুল ইসলাম মাথা চেপে ধরেন এবং মানিক বেপারী কোদাল দিয়ে গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এসময় বাইরে বিন-আমিন এবং রিপন পাহাড়ায় ছিলেন। হত্যার পর সাইফুল ইসলাম, বিন-আমিন এবং রিপন গরুর ফার্মের রান্না ঘরে গর্ত করে লাস পুতে রাখে।

গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম, ঠিকানাঃ
১. মানিক বেপারী (৩০), পিতা- কায়কোবাদ বেপারী, মাতা- মনোয়ারা বেগম, সাং- উত্তর চাইনপাড়া, থানা- সিরাজদিখান, জেলা- মুন্সিগঞ্জ।
২. মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪২), পিতা- মৃত গাফফার, মাতা- মোসা: ফরিদা বেগম, সাং- পশ্চিম রাজেন্দ্রপুর কানপাড়া, থানা- কোতয়ালী, জেলা-রংপুর।
৩. মোঃ রিপন (৩৪), পিতা- মৃত মমিন শেখ, মাতা- মমেলা বেগম, সাং- চাইনপাড়া, থানা- সিরাজদিখান, জেলা- মুন্সীগঞ্জ।
৪. মোঃ বিন আমিন শেখ (35), পিতা- মৃত হাজী ইদ্রিছ আলী শেখ, মাতা- রওশনারা বেগম, সাং- চাইনপাড়া, থানা- সিরাজদিখান, জেলা- মুন্সীগঞ্জ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানাধীন জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামের আওলাদ হোসেন এর অপহরণ ও খুনের রহস্য উদঘাটন; ঘটনায় জড়িত ০৪ জন গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

 

গত ০৯-০৫-২০২৬ খ্রিঃ তারিখে আওলাদ হোসেন (৬৫) নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হলে তার ভাই গত ১০-০৫-২০২৬ খ্রিঃ তারিখে সিরাজদিখান থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন (যাহার জিডি নং- ৪৫৯)। এরপরই আওলাদ শেখ কে খোজাখুজি শুরু করে থানার একটি টিম। পরবর্তীতে ২৩-০৫-২০২৬ ইং তারিখে আওলাদ হোসেন শেখের ছোট ভাই বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে আওলাদ হোসেন শেখের স্ত্রী রানী বেগম (৩৭), মানিক বেপারী (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে জমি লেখার উদ্দেশ্যে আওলাদ হোসেন শেখকে জোর পূর্বক অপহরণ করে এই মর্মে একটি মামলা দায়ের করেন (সিরাজদিখান থানার মামলা নং ৩৬, তারিখ- ২৩/০৫/২০২৬, ধারা- ৩৬৪/৩৪ পেনাল কোড )।

মামলা রজুর পর গত ৩১-০৫-২০২৬ খ্রিঃ তারিখ মোশারফ হোসেন মানিক (৩০)কে নিজ এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে সাইফুল ইসলাম (৪২)কে গত ৩০/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ বেলা ১৫.৩০ ঘটিকায় সাভার এর একটি ডেইরী ফার্ম থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী সাইফুল ইসলামের দেয়া তথ্য মতে গত ৩০-০৬-২০২৬ খ্রিঃ তারিখ গভীর রাতে রিপন (৩৫) ও বিন-আমিন (৩৮)কে সিরাজদিখান থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে গ্রেফতার করা হয়। সাইফুল ও অন্যান্য আসামীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামের বোরহান বেপারির গরুর ফার্মের রান্না ঘর এর ভিতর থেকে পুতে রাখা অবস্থায় আওলাদ হোসেন শেখ এর লাশ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, ডিসিস্ট আওলাদ হোসেন প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর রানী বেগমকে বিয়ে করেন। রানী বেগম ও আওলাদের সংসারে কোন সন্তানাদি না হওয়ায় প্রায়শঃই ঝগড়াঝাটি হতো। আসামী মানিক বেপারী (৩০), রানী বেগমের ভগ্নিপতি। মানিক বেপারী বিভিন্ন সময় আওলাদ হোসেন এর নিকট থেকে টাকা-পয়সা নিতেন মর্মে জানা যায়। মানিক বেপারী ও রানী বেগম আওলাদ হোসেনকে তার জমিজমা রানী বেগমের নামে লিখে দিতে চাপ প্রয়োগ করতেন। কিন্তু আওলাদ হোসেন জমিজমা লিখে দিতে অস্বীকার করতেন এবং আরেকটি বিয়ে করবেন বলেও জানান। এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মানিক বেপারী ও রানী বেগম আওলাদ হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তারই ধারিবাহিকতায় ঘটনার দিন গত ০৯/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সন্ধ্যার পরে মানিক বেপারী ডিসিস্ট আওলাদ হোসেনকে চাইনপাড়াস্থ বোরহান বেপারীর গরুর ফার্মে ডেকে নিয়ে যায়। গরুর ফার্মের ঘরে এসময় বোরহান বেপারীর কাজের লোক সাইফুল ইসলাম এবং মানিক বেপারী উপস্থিত ছিলেন। আওলাদ হোসেনকে বিছানায় ফেলে সাইফুল ইসলাম মাথা চেপে ধরেন এবং মানিক বেপারী কোদাল দিয়ে গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এসময় বাইরে বিন-আমিন এবং রিপন পাহাড়ায় ছিলেন। হত্যার পর সাইফুল ইসলাম, বিন-আমিন এবং রিপন গরুর ফার্মের রান্না ঘরে গর্ত করে লাস পুতে রাখে।

গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম, ঠিকানাঃ
১. মানিক বেপারী (৩০), পিতা- কায়কোবাদ বেপারী, মাতা- মনোয়ারা বেগম, সাং- উত্তর চাইনপাড়া, থানা- সিরাজদিখান, জেলা- মুন্সিগঞ্জ।
২. মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪২), পিতা- মৃত গাফফার, মাতা- মোসা: ফরিদা বেগম, সাং- পশ্চিম রাজেন্দ্রপুর কানপাড়া, থানা- কোতয়ালী, জেলা-রংপুর।
৩. মোঃ রিপন (৩৪), পিতা- মৃত মমিন শেখ, মাতা- মমেলা বেগম, সাং- চাইনপাড়া, থানা- সিরাজদিখান, জেলা- মুন্সীগঞ্জ।
৪. মোঃ বিন আমিন শেখ (35), পিতা- মৃত হাজী ইদ্রিছ আলী শেখ, মাতা- রওশনারা বেগম, সাং- চাইনপাড়া, থানা- সিরাজদিখান, জেলা- মুন্সীগঞ্জ।