ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের দুধে শিশুর সুস্থতা সচেতনতায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

 

‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধকরি পান, টেকসই উন্নয়ন করি বেগবান। — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ (১-৭ আগস্ট) উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে র‍্যালি শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রধান কর্মকর্তা ডাক্তার জয়নাব জমিলা। অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় মাতৃদুগ্ধের প্রয়োজনীয়তা, নবজাতকের সুস্থ বৃদ্ধি এবং মায়ের দুধের উপকারিতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. রীতা দাশ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবিদুর শাহেদিন চৌধুরী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. পলাশ বনিক এবং পরিবেশবাদী সংগঠন
গ্রীন ফর সোসাইটির প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক নেজাম উদ্দীন।

বক্তারা বলেন, জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ (কলোস্ট্রাম) পান করানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। একজন নবজাতকের শারীরিক গঠন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মেধা ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। অপ্রয়োজনে ফর্মুলা ফিডিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবার ও সমাজের সবাইকে মায়েদের স্তন্যপান করানোর জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, “ফর্মুলা ফিডিং নয়, মায়ের দুধই সন্তানের জন্য সবচেয়ে উপকারী। মায়ের দুধ শুধু শিশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে না, এটি শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগ থেকে সুরক্ষা দেয় এবং সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে।”

তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মায়েদের জন্য বেস্ট ফিডিং রুম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মাতৃদুগ্ধ পান করানোর বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাইকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

মায়ের দুধে শিশুর সুস্থতা সচেতনতায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

 

‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধকরি পান, টেকসই উন্নয়ন করি বেগবান। — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ (১-৭ আগস্ট) উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে র‍্যালি শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রধান কর্মকর্তা ডাক্তার জয়নাব জমিলা। অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় মাতৃদুগ্ধের প্রয়োজনীয়তা, নবজাতকের সুস্থ বৃদ্ধি এবং মায়ের দুধের উপকারিতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. রীতা দাশ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবিদুর শাহেদিন চৌধুরী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. পলাশ বনিক এবং পরিবেশবাদী সংগঠন
গ্রীন ফর সোসাইটির প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক নেজাম উদ্দীন।

বক্তারা বলেন, জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ (কলোস্ট্রাম) পান করানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। একজন নবজাতকের শারীরিক গঠন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মেধা ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। অপ্রয়োজনে ফর্মুলা ফিডিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবার ও সমাজের সবাইকে মায়েদের স্তন্যপান করানোর জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, “ফর্মুলা ফিডিং নয়, মায়ের দুধই সন্তানের জন্য সবচেয়ে উপকারী। মায়ের দুধ শুধু শিশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে না, এটি শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগ থেকে সুরক্ষা দেয় এবং সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে।”

তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মায়েদের জন্য বেস্ট ফিডিং রুম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মাতৃদুগ্ধ পান করানোর বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাইকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।