ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদারগঞ্জে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাকরুল সূর্যমুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

মাদারগঞ্জে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাকরুল সূর্যমুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ১ নং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল সূর্যমুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা নিয়ে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর নামে উপবৃত্তির টাকা বরাদ্দ হলেও তারা নিয়মিত সেই টাকা পাচ্ছে না। এমনকি উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আমেনা (১৪) অভিযোগ করে বলেন, তার নামে উপবৃত্তির টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং তিনি দুইবার টাকা পেয়েছেন। এরপর আর তার নগদ হিসাবে কোনো উপবৃত্তির টাকা আসেনি। তার অভিযোগ, শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দুইবার টাকা দেওয়ার সময় ৫০০ টাকা করে নিয়েছেন।
একই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুয়াইয়াও সাংবাদিকদের কাছে একই ধরনের অভিযোগ করেন। অপরদিকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়ার বাবা মিজানুর রহমান বলেন, তার মেয়ের নাম উপবৃত্তির তালিকায় থাকলেও সে কোনো টাকা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকই ওই টাকা আত্মসাৎ করছেন।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন নিজের বোনের মেয়ে এবং বোনের সিম নম্বর ব্যবহার করেও উপবৃত্তির টাকা গ্রহণ করছেন। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির হিসাব ও সরকারি তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করা হলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের উপবৃত্তির তালিকা দেখাতে রাজি হননি। ফলে অভিযোগের সঙ্গে সরকারি তালিকার মিল রয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরার আড়ালে ডেকে নিয়ে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন এবং সাংবাদিকদের অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনিও প্রথমে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরে সাংবাদিকরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ত্যাগ করার সময় তিনি বলেন, “বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য উপবৃত্তির টাকা নিয়ে এমন অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য টাকা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

মাদারগঞ্জে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাকরুল সূর্যমুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

আপডেট সময় : ১০:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ১ নং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল সূর্যমুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা নিয়ে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর নামে উপবৃত্তির টাকা বরাদ্দ হলেও তারা নিয়মিত সেই টাকা পাচ্ছে না। এমনকি উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আমেনা (১৪) অভিযোগ করে বলেন, তার নামে উপবৃত্তির টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং তিনি দুইবার টাকা পেয়েছেন। এরপর আর তার নগদ হিসাবে কোনো উপবৃত্তির টাকা আসেনি। তার অভিযোগ, শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দুইবার টাকা দেওয়ার সময় ৫০০ টাকা করে নিয়েছেন।
একই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুয়াইয়াও সাংবাদিকদের কাছে একই ধরনের অভিযোগ করেন। অপরদিকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়ার বাবা মিজানুর রহমান বলেন, তার মেয়ের নাম উপবৃত্তির তালিকায় থাকলেও সে কোনো টাকা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকই ওই টাকা আত্মসাৎ করছেন।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন নিজের বোনের মেয়ে এবং বোনের সিম নম্বর ব্যবহার করেও উপবৃত্তির টাকা গ্রহণ করছেন। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির হিসাব ও সরকারি তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করা হলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের উপবৃত্তির তালিকা দেখাতে রাজি হননি। ফলে অভিযোগের সঙ্গে সরকারি তালিকার মিল রয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরার আড়ালে ডেকে নিয়ে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন এবং সাংবাদিকদের অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনিও প্রথমে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরে সাংবাদিকরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ত্যাগ করার সময় তিনি বলেন, “বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য উপবৃত্তির টাকা নিয়ে এমন অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য টাকা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।