জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ১ নং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল এলাকায় অবস্থিত ৮৩ নং পাকরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয় না এবং শিক্ষকদের উপস্থিতিও অনিয়মিত। মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বাইরে জাতীয় পতাকা উড়ছে। তবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষককে দেখা যায়নি। বিদ্যালয়ে কর্মরত তিনজন শিক্ষকের একজনও উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা যায়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন। এতে একসময় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে মনে করছেন তারা। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা. আফরোজ বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা একেবারেই কম। আমি অন্য স্কুলে চলে যাব। এই স্কুল নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। আপনারা নিউজ করে আমার কিছুই করতে পারবেন না। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে দায়িত্বশীলদের এমন মনোভাব কতটা গ্রহণযোগ্য এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, “উপজেলায় বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেশি হওয়ায় কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট রয়েছে। ৮৩ নং পাকরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয় চলার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি বিদ্যালয়ে এমন পরিস্থিতি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক।
মাদারগঞ্জে শিক্ষকদের অবহেলায় বিলুপ্তির পথে ৮৩ নং পাকরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
-
সাদ্দাম হোসাইন মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি। - আপডেট সময় : ০১:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- 112
জনপ্রিয় সংবাদ




















