ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক সম্রাট কাজল পুলিশের খাচায়

অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লো চুনারুঘাট পৌর শহরের বহুল আলোচিত মাদক সম্রাট মো. কাজল মিয়া (৪৭) ওরফে ‘ইয়াবা কাজল’।
দীর্ঘদিনের অধরা ও বারবার জামিনে মুক্ত হয়ে ফের মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তোলা এই মাদক কারবারির গ্রেপ্তারে চুনারুঘাট পৌর শহরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমানের নির্দেশে এবং হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের তত্ত্বাবধানে চুনারুঘাট থানার একটি বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
চুনারুঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এএসআই খালিদ হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স পৌর শহরের নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।কাজল মিয়া চুনারুঘাট পৌরসভার চন্দনা ধলাইপাড় এলাকার মৃত জহুর হোসেনের পুত্র।
সম্প্রতি চুনারুঘাটসহ আশপাশের এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার এবং এর নেপথ্যে কাজল মিয়ার জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় মিডিয়ায়- মাদকের বিস্তারে উদ্বিগ্ন চুনারুঘাট, ইয়াবা সম্রাট কাজলকে গ্রেপ্তারের দাবি’ শিরোনামে তোলপাড় সৃষ্টিকারী সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমানের নজরে এলে তিনি দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।ডিআইজির সার্বিক দিকনির্দেশনায় চুনারুঘাট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য পৌরসভার চন্দনা ও ধলাইপাড়সহ পুরো উপজেলায় কাজল ও তার সহযোগীদের একচ্ছত্র মাদকের সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। রাতের আঁধারে ইয়াবার চালান পরিবহন ও কেনাবেচার মূল হোতা ছিল এই কাজল। তার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে সাধারণ মানুষ ও প্রতিবাদীদের ভয়ভীতি ও চরম হয়রানির শিকার হতে হতো।জামিন পেলেই ফের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়তো কাজল।
পুলিশের নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কাজল মিয়ার বিরুদ্ধে অপরাধের ইতিহাস প্রায় দুই দশকের। ২০০৬ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে চুরি, মারামারিসহ নানা অপরাধের মামলা রয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৫, ২০১৮, ২০২০, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৪ সালেও তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একের পর এক মামলা হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বরও তাকে একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে সে দ্বিগুণ উৎসাহে পুনরায় মাদক কারবারে লিপ্ত হয়। তার এই বেপরোয়া কার্যক্রমে এলাকার কিশোর ও তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছিল এবং সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল।এদিকে ‘ইয়াবা কাজল’ গ্রেপ্তারের খবরে চুনারুঘাটের সচেতন মহল ও সুশীল সমাজ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। অনেকেই মনে করছেন, মূল হোতা ধরা পড়ায় পৌর এলাকায় মাদকের কেনাবেচা অনেকটাই কমে যাবে।
তবে সচেতন মহলের জোর দাবি- শুধু একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করলেই মাদকের বিস্তার বন্ধ হবে না। কাজলের মতো ব্যক্তিদের নেপথ্যে থাকা মাদকের মূল উৎস, সরবরাহের রুট, পরিবহনকারী ও পর্দার আড়ালের প্রভাবশালী সহযোগীদেরও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে কোনো আইনি ফাঁকফোকর গলে এই অপরাধীরা আর পার না পেতে পারে।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন,আমি যোগদানের পর থেকেই কাজল কে গ্রেফতারে চক কষছিলাম,গতাকাল আমরা তাহাকে গ্রেফতারে সক্ষম হই।সকল আইনি পক্রিয়া শেষে আসামি কে আদালতে প্রেরণ করা হয়।মাদকের এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

মাদক সম্রাট কাজল পুলিশের খাচায়

আপডেট সময় : ১২:২৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লো চুনারুঘাট পৌর শহরের বহুল আলোচিত মাদক সম্রাট মো. কাজল মিয়া (৪৭) ওরফে ‘ইয়াবা কাজল’।
দীর্ঘদিনের অধরা ও বারবার জামিনে মুক্ত হয়ে ফের মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তোলা এই মাদক কারবারির গ্রেপ্তারে চুনারুঘাট পৌর শহরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমানের নির্দেশে এবং হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের তত্ত্বাবধানে চুনারুঘাট থানার একটি বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
চুনারুঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এএসআই খালিদ হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স পৌর শহরের নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।কাজল মিয়া চুনারুঘাট পৌরসভার চন্দনা ধলাইপাড় এলাকার মৃত জহুর হোসেনের পুত্র।
সম্প্রতি চুনারুঘাটসহ আশপাশের এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার এবং এর নেপথ্যে কাজল মিয়ার জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় মিডিয়ায়- মাদকের বিস্তারে উদ্বিগ্ন চুনারুঘাট, ইয়াবা সম্রাট কাজলকে গ্রেপ্তারের দাবি’ শিরোনামে তোলপাড় সৃষ্টিকারী সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমানের নজরে এলে তিনি দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।ডিআইজির সার্বিক দিকনির্দেশনায় চুনারুঘাট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য পৌরসভার চন্দনা ও ধলাইপাড়সহ পুরো উপজেলায় কাজল ও তার সহযোগীদের একচ্ছত্র মাদকের সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। রাতের আঁধারে ইয়াবার চালান পরিবহন ও কেনাবেচার মূল হোতা ছিল এই কাজল। তার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে সাধারণ মানুষ ও প্রতিবাদীদের ভয়ভীতি ও চরম হয়রানির শিকার হতে হতো।জামিন পেলেই ফের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়তো কাজল।
পুলিশের নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কাজল মিয়ার বিরুদ্ধে অপরাধের ইতিহাস প্রায় দুই দশকের। ২০০৬ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে চুরি, মারামারিসহ নানা অপরাধের মামলা রয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৫, ২০১৮, ২০২০, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৪ সালেও তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একের পর এক মামলা হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বরও তাকে একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে সে দ্বিগুণ উৎসাহে পুনরায় মাদক কারবারে লিপ্ত হয়। তার এই বেপরোয়া কার্যক্রমে এলাকার কিশোর ও তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছিল এবং সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল।এদিকে ‘ইয়াবা কাজল’ গ্রেপ্তারের খবরে চুনারুঘাটের সচেতন মহল ও সুশীল সমাজ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। অনেকেই মনে করছেন, মূল হোতা ধরা পড়ায় পৌর এলাকায় মাদকের কেনাবেচা অনেকটাই কমে যাবে।
তবে সচেতন মহলের জোর দাবি- শুধু একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করলেই মাদকের বিস্তার বন্ধ হবে না। কাজলের মতো ব্যক্তিদের নেপথ্যে থাকা মাদকের মূল উৎস, সরবরাহের রুট, পরিবহনকারী ও পর্দার আড়ালের প্রভাবশালী সহযোগীদেরও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে কোনো আইনি ফাঁকফোকর গলে এই অপরাধীরা আর পার না পেতে পারে।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন,আমি যোগদানের পর থেকেই কাজল কে গ্রেফতারে চক কষছিলাম,গতাকাল আমরা তাহাকে গ্রেফতারে সক্ষম হই।সকল আইনি পক্রিয়া শেষে আসামি কে আদালতে প্রেরণ করা হয়।মাদকের এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।