ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক :

মনিরামপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতে ফসলি জমির মাটি কাটা, নেপথ্যে প্রভাবশালীর দাপটের অভিযোগ

  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • 51

মনিরামপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতে ফসলি জমির মাটি কাটা, নেপথ্যে প্রভাবশালীর দাপটের অভিযোগ

মনিরামপুর, যশোর উপজেলা প্রশাসনের লিখিত নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে রোহিতা ইউনিয়নে রাতের আঁধারে ফসলি কৃষি জমির মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে কাজ বন্ধের নোটিশ জারি করা হলেও ভেকু দিয়ে অবাধে খনন করে মাটি ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে উর্বর কৃষি জমি, অন্যদিকে ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নোটিশ জারির পরও মাটি কাটা অব্যাহত
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১৮/০৬/২০২৬ তারিখে রোহিতা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর মৌজায় ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগে মো. সোহরাব হোসেন, পিতা: খাতের মোড়ল-কে তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধের নোটিশ দেয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী নোটিশ পাওয়ার পর ১৫ মিনিটের মধ্যে খনযন্ত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ, নোটিশের পরও রাতে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা বন্ধ হয়নি। ইতোমধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জমির মাটি কাটা শেষ হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

প্রভাবশালীর দাপটের অভিযোগ, অসহায় ভূমি অফিস
এই অবৈধ মাটি কাটার পেছনে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, প্রভাবের কারণে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। বিষয়টি নিয়ে একাধিক অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলেও মাটি কাটা বন্ধ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোহিতা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মুঠোফোনে জানান, দিনে মাটি কাটার খবর পেলে তারা ব্যবস্থা নেন। তবে রাতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাটি কাটা হলে একা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় না। তিনি এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কঠোর অভিযান দাবি এলাকাবাসীর
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এভাবে ফসলি জমি কাটা চলতে থাকলে অচিরেই কৃষি জমি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং জনগণের আইনের প্রতি আস্থা কমবে। পরিবেশ ও গ্রামীণ সড়ক রক্ষায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মনিরামপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতে ফসলি জমির মাটি কাটা, নেপথ্যে প্রভাবশালীর দাপটের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:২৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

মনিরামপুর, যশোর উপজেলা প্রশাসনের লিখিত নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে রোহিতা ইউনিয়নে রাতের আঁধারে ফসলি কৃষি জমির মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে কাজ বন্ধের নোটিশ জারি করা হলেও ভেকু দিয়ে অবাধে খনন করে মাটি ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে উর্বর কৃষি জমি, অন্যদিকে ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নোটিশ জারির পরও মাটি কাটা অব্যাহত
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১৮/০৬/২০২৬ তারিখে রোহিতা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর মৌজায় ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগে মো. সোহরাব হোসেন, পিতা: খাতের মোড়ল-কে তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধের নোটিশ দেয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী নোটিশ পাওয়ার পর ১৫ মিনিটের মধ্যে খনযন্ত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ, নোটিশের পরও রাতে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা বন্ধ হয়নি। ইতোমধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জমির মাটি কাটা শেষ হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

প্রভাবশালীর দাপটের অভিযোগ, অসহায় ভূমি অফিস
এই অবৈধ মাটি কাটার পেছনে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, প্রভাবের কারণে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। বিষয়টি নিয়ে একাধিক অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলেও মাটি কাটা বন্ধ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোহিতা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মুঠোফোনে জানান, দিনে মাটি কাটার খবর পেলে তারা ব্যবস্থা নেন। তবে রাতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাটি কাটা হলে একা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় না। তিনি এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কঠোর অভিযান দাবি এলাকাবাসীর
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এভাবে ফসলি জমি কাটা চলতে থাকলে অচিরেই কৃষি জমি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং জনগণের আইনের প্রতি আস্থা কমবে। পরিবেশ ও গ্রামীণ সড়ক রক্ষায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।