সাংবাদিকতা একটি মহৎ ও দায়িত্বশীল পেশা। সমাজের অসংগতি তুলে ধরা, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য মানুষের সামনে প্রকাশ করা এবং জনস্বার্থে কাজ করাই সাংবাদিকতার অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। তবে এই পেশার ভেতরে থাকা কিছু অনৈতিক চর্চা ও হলুদ সাংবাদিকতা নিয়ে মাঝে-মধ্যেই প্রশ্ন ওঠে।
এবার সাংবাদিকতা নিয়ে নিজের ক্ষোভ ও অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি মন্তব্যে তুলে ধরেছেন মধুপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক জয়নাল আবেদিন।
তার মন্তব্যে সাংবাদিকদের একটি অংশের অনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে স্বার্থসিদ্ধির জন্য সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার এবং পুলিশের সঙ্গে কথিত অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রকৃত সাংবাদিকদের সাধারণত সহজ-সরল, সৎ ও দায়িত্বশীল হিসেবে উল্লেখ করে ভালো ও মন্দ সাংবাদিকদের এক কাতারে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
জয়নাল আবেদিনের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো সাংবাদিকতা পেশার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃত সাংবাদিকদের নিয়েও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি তার মন্তব্যে সাংবাদিকদের নিয়ে প্রচলিত একটি তীব্র ব্যঙ্গাত্মক ধারণার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, সমাজে এক শ্রেণির সাংবাদিককে মানুষ নানা নেতিবাচক নামে অভিহিত করে। তার মতে, এর পেছনে মূল কারণ হলো কিছু ব্যক্তির সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অভিযোগ।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পার্থক্য করা জরুরি। কারও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা কোনো অসাধু সাংবাদিকের কর্মকাণ্ডের কারণে যেন পুরো সাংবাদিক সমাজকে একই দৃষ্টিতে দেখা না হয়—সেদিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
জয়নাল আবেদিনের এই বক্তব্য ইতোমধ্যে সাংবাদিকতা পেশার নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও পেশাগত মর্যাদা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার মন্তব্যের মূল বক্তব্য হলো—অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় পুরো সাংবাদিক সমাজের ওপর চাপানো যেমন ঠিক নয়, তেমনি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ। তাই এই পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা, নৈতিকতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে পেশার নামে অনিয়ম ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজের ভেতর থেকেই কার্যকর অবস্থান নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুজন কুমার দাস ধনবাড়ী/মধুপুর প্রতিনিধি 



















