ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেড়ামারায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আনারকলি

 

একসময় বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত হলেও এখন এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। পরীক্ষামূলক ভাবে চাষ করে সফলতা পাওয়ায় এখন এক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবেই চাষ করেছেন হালিম আহম্মেদ বাচ্চু। কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের কোদালিয়া পাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা হালিম আহম্মেদ বাচ্চুর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, লতানো গাছের সবুজ পাতার মাঝে ঝুলছে সবুজ রঙের আকর্ষণীয় দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলের ফল আনারকলি, প্যাশন বা ট্যাংক ফল।

তিনি বলেন, চারা লাগানোর ৮মাস পর থেকে ফল আসা শুরু করলেও এটি সারা বছর ফল দিতে থাকে। কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এই ফল চাষ করা যায়। জলবায়ু সহনশীল টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল চাষে তুলনামূলক কম খরচ ও রোগবালাই কম হওয়ায় দিন দিন চাষে আগ্রহ বাড়ছে আশপাশের কৃষকদেরও।

কৃষি বিভাগ থেকে যদি আমাদের মতো ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তারা সহযোগিতা পায়, তাহলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারবো বলে।আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। বাপ-দাদাও কৃষক ছিলেন। কৃষিই আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। আমি গতবছর ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরে স্টালিন ভাইয়ের বাগানে সর্বপ্রথম এই ফলের চাষাবাদ দেখি। সেখান থেকেই আমি চারা সংগ্রহ করে আমি আমার ১বিঘা জমিতে রোপন করি। কিছু দিনের মধ্যেই এসব ডালে নতুন পাতা গজায় এবং তরতর করে গাছগুলো লাউ গাছের মতো বড় হতে থাকে। পরে মাচাং তৈরি করে দেই। মাচাংয়ে বড় হতে হতে মাত্র ৮ মাসের মধ্যে সুন্দর ফুল ও পরে ফল হতে থাকে। আট মাস আগে লাগানো এসব গাছে এখন ফল পাকতে শুরু করেছে।

এক বিঘার বাগান করতে বাচ্চু ভাইয়ের এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। বর্তমান ফলন ও বাজারদর ঠিক থাকলে মৌসুম শেষে প্রায় ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন তিনি।

বাচ্চুর বাগান দেখতে আসছেন আশপাশের মানুষও। নতুন এই ফলের চাষ ও ফলন দেখে অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

ভেড়ামারা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সদরুল ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফলটি আনারমলি, প্যাশন ফ্রুট বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত। ভেড়ামারায় এর চাষ নতুন হলেও চলতি মৌসুমে উপজেলার অনেক জমিতে বানিজ্যিক ভাবে এর চাষ হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ভেড়ামারায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আনারকলি

আপডেট সময় : ০৮:২১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

 

একসময় বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত হলেও এখন এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। পরীক্ষামূলক ভাবে চাষ করে সফলতা পাওয়ায় এখন এক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবেই চাষ করেছেন হালিম আহম্মেদ বাচ্চু। কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের কোদালিয়া পাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা হালিম আহম্মেদ বাচ্চুর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, লতানো গাছের সবুজ পাতার মাঝে ঝুলছে সবুজ রঙের আকর্ষণীয় দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলের ফল আনারকলি, প্যাশন বা ট্যাংক ফল।

তিনি বলেন, চারা লাগানোর ৮মাস পর থেকে ফল আসা শুরু করলেও এটি সারা বছর ফল দিতে থাকে। কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এই ফল চাষ করা যায়। জলবায়ু সহনশীল টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল চাষে তুলনামূলক কম খরচ ও রোগবালাই কম হওয়ায় দিন দিন চাষে আগ্রহ বাড়ছে আশপাশের কৃষকদেরও।

কৃষি বিভাগ থেকে যদি আমাদের মতো ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তারা সহযোগিতা পায়, তাহলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারবো বলে।আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। বাপ-দাদাও কৃষক ছিলেন। কৃষিই আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। আমি গতবছর ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরে স্টালিন ভাইয়ের বাগানে সর্বপ্রথম এই ফলের চাষাবাদ দেখি। সেখান থেকেই আমি চারা সংগ্রহ করে আমি আমার ১বিঘা জমিতে রোপন করি। কিছু দিনের মধ্যেই এসব ডালে নতুন পাতা গজায় এবং তরতর করে গাছগুলো লাউ গাছের মতো বড় হতে থাকে। পরে মাচাং তৈরি করে দেই। মাচাংয়ে বড় হতে হতে মাত্র ৮ মাসের মধ্যে সুন্দর ফুল ও পরে ফল হতে থাকে। আট মাস আগে লাগানো এসব গাছে এখন ফল পাকতে শুরু করেছে।

এক বিঘার বাগান করতে বাচ্চু ভাইয়ের এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। বর্তমান ফলন ও বাজারদর ঠিক থাকলে মৌসুম শেষে প্রায় ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন তিনি।

বাচ্চুর বাগান দেখতে আসছেন আশপাশের মানুষও। নতুন এই ফলের চাষ ও ফলন দেখে অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

ভেড়ামারা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সদরুল ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফলটি আনারমলি, প্যাশন ফ্রুট বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত। ভেড়ামারায় এর চাষ নতুন হলেও চলতি মৌসুমে উপজেলার অনেক জমিতে বানিজ্যিক ভাবে এর চাষ হয়েছে।