দিন দিন পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। ফলে ভেড়ামারা উপজেলার রায়টা বেড়িবাঁধ এখন হুমকির মুখে। ভাঙন থেকে মাত্র ১শ’ মিটার দূরে ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার পরিবারের বাড়িঘর। ইতোমধ্যে বেশ কয়েক একর ফসলি জমি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়টা বেড়িবাঁধের পাশেই রায়টা পাথরঘাট। ভেড়ামারা থানার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এখানে রয়েছে পিকনিক স্পট।
প্রতিদিন পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাঁধের কাছে এসে পানির ধাক্কা লাগছে। পানি ঘুরপাক ও পানি তীব্র স্রোতে ভাঙতে শুরু করেছে রায়টা বেড়িবাঁধ। এই বাঁধ ভেঙে গেলে রায়টা নতুনপাড়া ও ফয়জুল্লাপুর এই দুই গ্রাম পানিতে ডুবে তলিয়ে যাবে। পানিবন্দি হয়ে পড়বে প্রায় ৩ হাজার মানুষ।
উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জাম্মদ কবিরাজ জানান, গত বছর নদী ভাঙনের সময় থেকেই আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছিলাম। তারা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন কিচ্ছুটা রোধ করেছিলো। এইবার ফয়জুল্লাপুর কবিরাজ পাড়া ভয়াবহ পদ্মার ভাঙনের মুখে। এইবার পদ্মার ধারে ব্লক ফেলা জরুরী হয়ে পড়েছে।
কবিরাজপাড়া গ্রামের ফরিদা পারভিন ও ময়না খাতুন কান্নায় ভেঙে পরেন। তারা জানান, প্রতিদিন পদ্মার পাড় ভাঙছে। বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে ভাঙন। রাতে ঘুম আসেনা। ছেলে-মেয়ে নিয়ে চরম বিপদে পড়েছি। না জানি কখন ফয়জুল্লাপুর কবিরাজ পাড়ার বাড়িঘর পদ্মায় বিলিন হয়ে যায়। সরকার আমাদের কে নদী ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাক। একই এলাকার আপতাবুল, টিক্কা, নাজিম, মজনু, বজু, হান্নান, খোকন ও কালু প্রমানিক জানান, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতায় ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। আউশ ধান, কলাবাগান, নানা প্রকার শাকসবজির ক্ষেত নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন রোধ করা না হলে বাড়িঘরসহ সবকিছু নদীতে চলে যাবে।
ড. অধ্যাপক নূরুল আমিন জসিম জানান, উপজেলার জুনিয়াদহ ফয়জুল্লাপুর কবিরাজ পাড়া ভাঙনের মুখে। এই এলাকা ভাঙ্গনের ফলে সাধারন জনগন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেড়শ পরিবার হুমকির মুখে। বাড়িঘর ভাঙনের মুখে। নদী এখন ২শ’ মিটার দুরে রয়েছে। রোধ করা না হলে এই এলাকার বাড়িঘর সব নদী গর্ভে চলে যাবে। তাই ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, পদ্মা নদী থেকে নিয়ম না মেনে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে আরোও। ভাঙন রোধে গত বছর ছোট জিও ব্যাগ ফেলানো হয়। তারপরও পদ্মার পাড় ভাঙা থামেনি। ওইখানে প্রয়োজন এখন দ্রুত বড় বড় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ কিংবা ব্লক।
এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, ব্যুরো চীফ, দক্ষিণাঞ্চল 



















