ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিষমুক্ত বরবটি চাষে নারী উদ্যোক্তা সাদিয়া রহমানের সাফল্য

কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নওদা খাঁড়ারা গ্রামের নারী কৃষি উদ্যোক্তা মোছা সাদিয়া রহমান নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এবং GAP (Good Agricultural Practices) পদ্ধতি অনুসরণ করে তিনি এক একর জমিতে ‘আনন্দ’ জাতের বরবটির প্রদর্শনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।

বিশ্বব্যাংক ও আইএফএডি সমর্থিত প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই প্রদর্শনী প্লটে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২০০ কেজি বরবটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি বরবটির মূল্য ৩০ টাকা হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার টাকা মূল্যের বরবটি বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ প্রকল্প থেকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বরবটি বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, GAP নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত ব্যবস্থাপনায় বরবটি উৎপাদন করা হচ্ছে। ক্ষতিকর রাসায়নিকের পরিবর্তে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করায় উৎপাদিত বরবটি ভোক্তাদের জন্য অধিক নিরাপদ এবং বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ছে।

উদ্যোক্তা মোছা. সাদিয়া রহমান বলেন, “নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েই আমি GAP পদ্ধতিতে বরবটি চাষ শুরু করেছি। শুরুতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকির কারণে এখন ভালো ফলন পাচ্ছি। আমি চাই আরও অনেক কৃষক নিরাপদ সবজি উৎপাদনে এগিয়ে আসুক।”

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের প্রদর্শনী প্রকল্প কৃষকদের আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করছে। পাশাপাশি বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নারী উদ্যোক্তা মোছা সাদিয়া রহমানের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে নিরাপদ কৃষির মাধ্যমে লাভজনক উৎপাদন সম্ভব। তাঁর এই সফলতা এলাকার অন্যান্য কৃষকদেরও GAP পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বিষমুক্ত বরবটি চাষে নারী উদ্যোক্তা সাদিয়া রহমানের সাফল্য

আপডেট সময় : ০৬:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নওদা খাঁড়ারা গ্রামের নারী কৃষি উদ্যোক্তা মোছা সাদিয়া রহমান নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এবং GAP (Good Agricultural Practices) পদ্ধতি অনুসরণ করে তিনি এক একর জমিতে ‘আনন্দ’ জাতের বরবটির প্রদর্শনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।

বিশ্বব্যাংক ও আইএফএডি সমর্থিত প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই প্রদর্শনী প্লটে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২০০ কেজি বরবটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি বরবটির মূল্য ৩০ টাকা হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার টাকা মূল্যের বরবটি বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ প্রকল্প থেকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বরবটি বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, GAP নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত ব্যবস্থাপনায় বরবটি উৎপাদন করা হচ্ছে। ক্ষতিকর রাসায়নিকের পরিবর্তে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করায় উৎপাদিত বরবটি ভোক্তাদের জন্য অধিক নিরাপদ এবং বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ছে।

উদ্যোক্তা মোছা. সাদিয়া রহমান বলেন, “নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েই আমি GAP পদ্ধতিতে বরবটি চাষ শুরু করেছি। শুরুতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকির কারণে এখন ভালো ফলন পাচ্ছি। আমি চাই আরও অনেক কৃষক নিরাপদ সবজি উৎপাদনে এগিয়ে আসুক।”

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের প্রদর্শনী প্রকল্প কৃষকদের আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করছে। পাশাপাশি বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নারী উদ্যোক্তা মোছা সাদিয়া রহমানের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে নিরাপদ কৃষির মাধ্যমে লাভজনক উৎপাদন সম্ভব। তাঁর এই সফলতা এলাকার অন্যান্য কৃষকদেরও GAP পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।