ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে খুরুজ জোড়ের প্রস্তুতি শেষ

বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে খুরুজ জোড়ের প্রস্তুতি শেষ

আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি হিসেবে তিন দিনব্যাপী খুরুজের জোড় শুরু হচ্ছে ২ জানুয়ারী আর শেষ হবে ৪ জানুয়ারি। ইতিমধ্যে এই আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

আজ রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সংবাদ জানিয়েছে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম)-এর মিডিয়া সমন্বয়কারী মোহাম্মদ হাবিবউল্লাহ রায়হান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম)-এর অধীনে খুরুজের জোড় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় মাঠ প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই জোড়ে অংশগ্রহণ করবেন কেবলমাত্র তারা—যারা আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা, ৩ চিল্লা ও বিদেশ সফরের উদ্দেশ্যে বের হবেন, এবং যারা মেহনতের মাধ্যমে সাথিদের এ কাজে উদ্বুদ্ধ করে নিয়ে আসবেন।উল্লেখ্য, এ সময় টঙ্গীতে ৫৯তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর তা আয়োজন করা হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম) গত ৩ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি দেশবাসীকে অবহিত করেছে।

হাবিবুল্লাহ রায়হান আরো জানান, দুঃখজনক হলেও সত্য, ‘সাদপন্থী’ নামে পরিচিত মহল এই খুরুজের জোড়কে ইজতেমা আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিভ্রান্তি ও ফেতনা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি তারা নিজেরাও একই স্থানে ইজতেমা আয়োজনের দাবি জানাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এখানে স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন যে, অতীতে তারা দুবার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অমান্য করে সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে।

২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর তারা ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতির কাজে নিয়োজিত তাবলীগের সাথিদের ওপর হামলা চালায়, যেখানে প্রায় ৫ হাজার সাথি আহত হন।

দ্বিতীয়বার, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে তারা পুনরায় বর্বর হামলা চালায়, এতে ৪ জন সাথি শহীদ হন এবং শতাধিক সাথি আহত হন।এই জঘন্য ও ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডের ফলে তারা নীতিগত ও নৈতিকভাবে ইজতেমা মাঠে কোনো প্রকার জোড় বা ইজতেমা আয়োজনের অধিকার হারিয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে, ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার পূর্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, সাদপন্থীরা ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি ইজতেমা করতে পারবে, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে তারা টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে কোনো ধরনের ইজতেমা বা তাবলীগী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণের সাপেক্ষেই তারা ওই সময়ের ইজতেমা সম্পন্ন করে, যা পুরো দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে (যদিও সেখানে অল্পসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছিল)। পরবর্তীতে তারা এ শর্ত মেনেই চলতি বছরে তাদের কার্যক্রম বিভাগীয় পর্যায়ে সম্পন্ন করেছে।

অথচ হঠাৎ করেই আবার তারা ইজতেমা মাঠকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশ ও জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে খুরুজ জোড়ের প্রস্তুতি শেষ

আপডেট সময় : ১০:১৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি হিসেবে তিন দিনব্যাপী খুরুজের জোড় শুরু হচ্ছে ২ জানুয়ারী আর শেষ হবে ৪ জানুয়ারি। ইতিমধ্যে এই আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

আজ রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সংবাদ জানিয়েছে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম)-এর মিডিয়া সমন্বয়কারী মোহাম্মদ হাবিবউল্লাহ রায়হান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম)-এর অধীনে খুরুজের জোড় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় মাঠ প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই জোড়ে অংশগ্রহণ করবেন কেবলমাত্র তারা—যারা আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা, ৩ চিল্লা ও বিদেশ সফরের উদ্দেশ্যে বের হবেন, এবং যারা মেহনতের মাধ্যমে সাথিদের এ কাজে উদ্বুদ্ধ করে নিয়ে আসবেন।উল্লেখ্য, এ সময় টঙ্গীতে ৫৯তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর তা আয়োজন করা হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম) গত ৩ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি দেশবাসীকে অবহিত করেছে।

হাবিবুল্লাহ রায়হান আরো জানান, দুঃখজনক হলেও সত্য, ‘সাদপন্থী’ নামে পরিচিত মহল এই খুরুজের জোড়কে ইজতেমা আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিভ্রান্তি ও ফেতনা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি তারা নিজেরাও একই স্থানে ইজতেমা আয়োজনের দাবি জানাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এখানে স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন যে, অতীতে তারা দুবার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অমান্য করে সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে।

২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর তারা ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতির কাজে নিয়োজিত তাবলীগের সাথিদের ওপর হামলা চালায়, যেখানে প্রায় ৫ হাজার সাথি আহত হন।

দ্বিতীয়বার, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে তারা পুনরায় বর্বর হামলা চালায়, এতে ৪ জন সাথি শহীদ হন এবং শতাধিক সাথি আহত হন।এই জঘন্য ও ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডের ফলে তারা নীতিগত ও নৈতিকভাবে ইজতেমা মাঠে কোনো প্রকার জোড় বা ইজতেমা আয়োজনের অধিকার হারিয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে, ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার পূর্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, সাদপন্থীরা ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি ইজতেমা করতে পারবে, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে তারা টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে কোনো ধরনের ইজতেমা বা তাবলীগী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণের সাপেক্ষেই তারা ওই সময়ের ইজতেমা সম্পন্ন করে, যা পুরো দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে (যদিও সেখানে অল্পসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছিল)। পরবর্তীতে তারা এ শর্ত মেনেই চলতি বছরে তাদের কার্যক্রম বিভাগীয় পর্যায়ে সম্পন্ন করেছে।

অথচ হঠাৎ করেই আবার তারা ইজতেমা মাঠকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশ ও জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।