ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথে সিএনজিতে তুলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এক নারীকে সিএনজি অটোরিকসায় তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি গয়াছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই রাত প্রায় ১০টার দিকে ভুক্তভোগী নারী সিলেট নগরের চণ্ডীপুল এলাকা থেকে ছাতক যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি সিএনজি অটোরিকসা ভাড়া করেন। অভিযোগ রয়েছে, চালক সাইদুর রহমান গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তাকে বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের আলমনগর এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক একটি বসতঘরের রান্নাঘরে নিয়ে যায়। এরপর অভিযুক্তরা পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্ষণের পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা নগদ ২ হাজার ২৫০ টাকা, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

পরে ভুক্তভোগী কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে পনাউল্লাহ বাজারে পৌঁছে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি গয়াছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন—আলমনগর গ্রামের মৃত ছিদ্দেক আলীর ছেলে গয়াছ মিয়া (৪৪), একই গ্রামের মৃত আয়না মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া (৩০), হায়াতেরগাঁও গ্রামের হাসিব আলীর ছেলে সাইদুর রহমান (৩০) এবং বটতলা গ্রামের ছাদ মিয়ার ছেলে আমির আলী (২৮)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।

বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনোজ প্রভাকর রায় বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বিশ্বনাথে সিএনজিতে তুলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১২:২৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এক নারীকে সিএনজি অটোরিকসায় তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি গয়াছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই রাত প্রায় ১০টার দিকে ভুক্তভোগী নারী সিলেট নগরের চণ্ডীপুল এলাকা থেকে ছাতক যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি সিএনজি অটোরিকসা ভাড়া করেন। অভিযোগ রয়েছে, চালক সাইদুর রহমান গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তাকে বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের আলমনগর এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক একটি বসতঘরের রান্নাঘরে নিয়ে যায়। এরপর অভিযুক্তরা পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্ষণের পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা নগদ ২ হাজার ২৫০ টাকা, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

পরে ভুক্তভোগী কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে পনাউল্লাহ বাজারে পৌঁছে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি গয়াছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন—আলমনগর গ্রামের মৃত ছিদ্দেক আলীর ছেলে গয়াছ মিয়া (৪৪), একই গ্রামের মৃত আয়না মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া (৩০), হায়াতেরগাঁও গ্রামের হাসিব আলীর ছেলে সাইদুর রহমান (৩০) এবং বটতলা গ্রামের ছাদ মিয়ার ছেলে আমির আলী (২৮)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।

বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনোজ প্রভাকর রায় বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।