ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিরামপুর রেলপথে নিরাপত্তা সরঞ্জাম চুরি, ঝুঁকিতে ট্রেন চলাচল

দিনাজপুরের বিরামপুর হয়ে চলাচলকারী গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পার্বতীপুর-বিরামপুর রেলপথের বিভিন্ন অংশ থেকে রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম—প্যান্ড্রল ক্লিপ, ফিসবোল্ট ও ফিসপ্লেট চুরির অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যস্ত এই রেলপথে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চিলাহাটি-পার্বতীপুর-বিরামপুর রেলপথের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় আনুমানিক ৭ হাজার প্যান্ড্রল ক্লিপ, ফিসবোল্ট ও ফিসপ্লেট চুরি হয়েছে। রেললাইনের এসব সরঞ্জাম ট্র্যাককে স্থিতিশীল ও নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিনের বেলায় রেলপথে পাহারার ব্যবস্থা করেছে। পার্বতীপুর-বিরামপুর অংশের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় একজন মিস্ত্রির নেতৃত্বে ১১ সদস্যের ওয়েম্যান দল দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি পার্বতীপুর-চিলাহাটি অংশেও একটি পৃথক দল নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।

তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছে রাতের বেলায়। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় রাতে রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই জনবল দিয়ে রেললাইনের নিরাপত্তা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতি নয়; এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে যাত্রীদের জীবন ও নিরাপত্তা। কোনো অংশে প্রয়োজনীয় ক্লিপ বা ফিসপ্লেট না থাকলে রেললাইন দুর্বল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বিশেষ করে বিরামপুর রেলস্টেশন দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করে। ফলে রেললাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত চুরি বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের দাবি উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতের পাহারা জোরদার করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে চুরি হওয়া রেল সরঞ্জাম কোথায় যাচ্ছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিরামপুরবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বিরামপুর রেলপথে নিরাপত্তা সরঞ্জাম চুরি, ঝুঁকিতে ট্রেন চলাচল

আপডেট সময় : ০৫:১০:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

দিনাজপুরের বিরামপুর হয়ে চলাচলকারী গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পার্বতীপুর-বিরামপুর রেলপথের বিভিন্ন অংশ থেকে রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম—প্যান্ড্রল ক্লিপ, ফিসবোল্ট ও ফিসপ্লেট চুরির অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যস্ত এই রেলপথে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চিলাহাটি-পার্বতীপুর-বিরামপুর রেলপথের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় আনুমানিক ৭ হাজার প্যান্ড্রল ক্লিপ, ফিসবোল্ট ও ফিসপ্লেট চুরি হয়েছে। রেললাইনের এসব সরঞ্জাম ট্র্যাককে স্থিতিশীল ও নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিনের বেলায় রেলপথে পাহারার ব্যবস্থা করেছে। পার্বতীপুর-বিরামপুর অংশের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় একজন মিস্ত্রির নেতৃত্বে ১১ সদস্যের ওয়েম্যান দল দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি পার্বতীপুর-চিলাহাটি অংশেও একটি পৃথক দল নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।

তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছে রাতের বেলায়। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় রাতে রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই জনবল দিয়ে রেললাইনের নিরাপত্তা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতি নয়; এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে যাত্রীদের জীবন ও নিরাপত্তা। কোনো অংশে প্রয়োজনীয় ক্লিপ বা ফিসপ্লেট না থাকলে রেললাইন দুর্বল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বিশেষ করে বিরামপুর রেলস্টেশন দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করে। ফলে রেললাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত চুরি বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের দাবি উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতের পাহারা জোরদার করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে চুরি হওয়া রেল সরঞ্জাম কোথায় যাচ্ছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিরামপুরবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করবে।