দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের দিঘলচাঁদ গ্রামের লালঘাট-আশুড়ার বিলের ওপর নির্মিত প্রায় ২১০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো ভারী বৃষ্টির পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ায় প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ। দ্রুত সাঁকোটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্র ও লিখিত আবেদন থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দিঘলচাঁদ গ্রামের লালঘাট-আশুড়ার বিলের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি দুই পাড়ের মানুষের একমাত্র সহজ যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। প্রতিদিন এ সাঁকোর ওপর দিয়ে প্রায় ১৫টি গ্রামের সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং ধানজুড়ি মিশন স্কুলের শিক্ষার্থীরা সাইকেল, মোটরসাইকেল ও ভ্যানগাড়ি নিয়ে চলাচল করতেন।
বুধবার (৮ জুলাই) টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট প্রবল স্রোতে সাঁকোটির কাঠ ও বাঁশ ভেসে যায়। ফলে এটি সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্তমানে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে অস্থায়ী ভেলা বা বিকল্প অনিরাপদ পথে পারাপার করছেন, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।।এ ঘটনায় -দিঘলচাঁদ গ্রামের বাসিন্দা কমল চন্দ্র সরকার বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করে সাঁকোটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ বা মেরামতের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, জনস্বার্থে সাঁকোটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা না হলে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং প্রাণহানির ঝুঁকিও থেকে যাবে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন জরুরি ভিত্তিতে সাঁকোটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কৃষক ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তিরও অবসান ঘটবে।
এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তানজিনা খাতুন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে এলাকাবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ লাঘব করা যায়।
মোঃ মোকাদ্দেছ বাবু, দিনাজপুর (বিরামপুর) প্রতিনিধি 



















