বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সাবেক কানুনগো মোঃ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে।বর্তমানে তিনি ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত আছে। এর আগে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয় থাকাকালীন সময়ে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও পায়রা বন্দর প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে সাধারণ গ্রাহকদের ফাইল আটকে বাধ্যতামূলক ১০% থেকে ২০% পার্সেন্টিজ ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি এই বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।উক্ত দুর্নীতির অর্থ দিয়ে তিনি বরিশাল ও পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ দৃশ্যমান স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করেছেন, যা তার বৈধ আয়ের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।
ইতিমধ্যেই তার এই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদের খতিয়ান অনুসন্ধানের জন্য বিভাগীয় কমিশনার,জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর একটি উচ্চপর্যায়ের লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত সম্পদের বিবরণ:স্থানীয় ভুক্তভোগী ও মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে দলীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের আশীর্বাদে কানুনগো ইব্রাহিম পটুয়াখালী এলএ শাখায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। এই সময়ে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের ক্ষতিপূরণের চেক ছাড়ানোর নামে সাধারণ জমির মালিকদের জিম্মি করে তিনি কোটি কোটি টাকার ক্যাশ ঘুষ বাণিজ্যের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই লুণ্ঠিত অর্থ দিয়ে তিনি বরিশাল এবং পটুয়াখালীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোটি কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
যার মধ্যে রয়েছে:
বরিশাল ও পটুয়াখালীতে প্লট:বরিশাল শহরে ও পটুয়াখালী পৌরসভা ও উপশহর এলাকায় প্রধান সড়কের পাশে কোটি টাকা মূল্যের একাধিক বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্লট ক্রয় করেছেন তিনি।
বেনামে অঢেল কৃষি ও অকৃষি জমি: পটুয়াখালী ও ভোলা অঞ্চলে সিন্ডিকেটের সদস্যদের নামে-বেনামে বিঘার পর বিঘা দামি জমি কেনার তথ্য মিলেছে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও এফডিআর: বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকে তার এবং তার আত্মীয়-স্বজনদের নামে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন ও স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) হদিস পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য:একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কানুনগো ইব্রাহিম ও তার দালাল সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, তাদের দাবি করা ১০% ঘুষ না দিলে জমির বৈধ মালিকদের ফাইল গায়েব করে দেওয়া হতো কিংবা ভুয়া দলিলের অজুহাত দেখিয়ে মাসের পর মাস ঘোরানো হতো। আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় থাকায় তখন কেউ এর প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।
কর্তৃপক্ষ ও দুদকের পদক্ষেপ:এই বিষয়ে দুদক (বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়) এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কানুনগো মোঃ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ আমাদের হস্তগত হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে মেগা প্রকল্পগুলোর ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড়ের বিপরীতে যে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ এসেছে, তার সত্যতা যাচাইয়ে নথিপত্র তলব করা হচ্ছে। সম্পদের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেই মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, মাঠ প্রশাসনের স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং ভূমি অধিগ্রহণে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় অনিয়মে জড়িত যেকোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বর্তমান প্রশাসন সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন।
এ বিষয়ে কানুনগো ইব্রাহিম এর কাছে জানতে চাইলে তাকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
দ্বিতীয় অনুসন্ধানী পর্ব দেখতে চোখ রাখুন পত্রিকার পাতায়,,,।
ক্রাইম রিপোর্টার, বরিশালঃ 



















