বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হয়েছে আয়েশা সিদ্দিকা নামের পরীক্ষার্থীকে।
বাবার হাত ধরে জীবনের প্রথম স্কুলে যাওয়ার স্মৃতি যার, সেই বাবাকেই হারানোর শোক বুকে নিয়েই পরীক্ষা হলে বসেছেন তিনি। প্রতিটি পরীক্ষার আগের রাতে বাবার কাছ থেকে দোয়া ও সাহস পেতেন আয়েশা। অথচ এবার পরীক্ষার দিন বাবাকে ছাড়াই যেতে হচ্ছে তাকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২৮শে জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার দুপুরে ফুসফুসের রোগের জটিলতার কারণে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশার বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যু খবর আয়েশার কাছে যেন আকস্মিক বজ্রপাতের মত আসে। একদিকে বাবাকে হারানোর গভির শোক, অন্যদিকে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা….সব মিলিয়ে কঠিন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন এই শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা দৈনিক জনবানী প্রতিকার প্রতিনিধিকে জানান, বাবার সঙ্গে আয়েশার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাবা তাকে উৎসাহ ও সাহস যুগিয়েছেন। মেয়ের পড়াশুনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। বাবার সে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে শোককে শক্তিতে পরিণত করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আয়েশা।
ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলায় আয়েশা সিদ্দিকা “নজিপুর সরকারি সরকারি কলেজের “বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। তার বাবা মিজানুর রহমান ধামুরহাট উপজেলার গাংরা ইসলামিয়া বালিকা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমান উপজেলা নজিপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের ঈদগাহ পাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। আয়েশা সিদ্দিকার বাবার আসল বাড়ি নওগাঁ জেলার ধামুরহাট উপজেলার মঙ্গল বাড়িতে মরদেহ সৎ কাজ সম্পন্ন হয়েছে ২৯ শে জুলাই ২০২৬ বুধবার সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে।
আয়েশা সিদ্দিকার সহপাঠী দৈনিক জনবাণী প্রতিনিধিকে জানান, পরিবারের প্রধান ভরসা বাবাকে চিরদিনের মত হারিয়ে আজ পরীক্ষা দিতে এসেছে, আমাদের তাকে সান্তনা দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নেই। দোয়া করি আশা সিদ্দীকার বাবা যেন পরো পারে জান্নাতের উচ্চ মোকাম দান করে (আমিন)।
নজিপুর সরকারি কলেজের প্রফেসর দৈনিক জনবাণী কে বলেন, পরীক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা বাবার মৃত্যুর খবর সম্বন্ধে আমরা অবগত আছি। চোখের পানি এক হাতে মুছে অন্য হাতে পরীক্ষা নামক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, বিষয়টি আমরা লক্ষ্য করেছি, আমরাও আয়শা সিদ্দিকা কে সাহস যুগিয়ে সান্তনা দিয়ে পরীক্ষা দেওয়া প্রেরণা যোগাচ্ছি এছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই।
আয়েশার পরিবারের সজনরা বলেন, বাবা হারানোর শোক কোনভাবেই পূরণ সবার নয়। তবে মেয়ের পরীক্ষা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তারা চান আশা সিদ্দিকা তার বাবার স্বপ্ন পূরণ করে জীবনের সফলকাম হোক।
হেলাল, পত্নীতলা(নওগাঁ)প্রতিনিধি 



















