ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজিতপুরে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

 

 

আজ ৩০শে আগস্ট রোজ রবিবার কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে অবস্থিত আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কথিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির সাবেক গভর্নিং বডির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এ নিয়ে তিনি ২৯ আগস্ট ভাগলপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা এসব অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় হওয়ার কথা। তাই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তারা কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতেই আন্দোলন করছেন বলে জানান।

এদিকে সাবেক গভর্নিং বডির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তবে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো তদন্ত বা আদালতের রায়ে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।

শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করবে এবং অভিযোগের সত্যতা থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হবে।

সার্বিকভাবে, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত—যার মাধ্যমে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বাজিতপুরে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

 

 

আজ ৩০শে আগস্ট রোজ রবিবার কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে অবস্থিত আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কথিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির সাবেক গভর্নিং বডির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এ নিয়ে তিনি ২৯ আগস্ট ভাগলপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা এসব অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় হওয়ার কথা। তাই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তারা কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতেই আন্দোলন করছেন বলে জানান।

এদিকে সাবেক গভর্নিং বডির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তবে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো তদন্ত বা আদালতের রায়ে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।

শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করবে এবং অভিযোগের সত্যতা থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হবে।

সার্বিকভাবে, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত—যার মাধ্যমে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।