বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেশপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় মাদক চোরাচালান, সেবন এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর কিশোর গ্যাং। সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেশপুর বাজার সংলগ্ন স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মরণঘাতী ইয়াবা ও গাঁজা সংগ্রহ করে এই গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রতিনিয়ত মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে এবং এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সক্রিয় সদস্যরা প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই গ্যাংটির মূল হোতা বা প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে কাজ করছে তপু (১৬), যার পিতা শাহজাহান হাওলাদার। তপুর সরাসরি নেতৃত্বে এই চক্রে যুক্ত রয়েছে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত কিশোর ও যুবক। গ্যাংটির অন্যতম প্রধান সক্রিয় সদস্যরা হলো:আরাফাত (১৮) পিতা:কিবরিয়া হাওলাদার,তুহিন (১৮), পিতা: সুলতান হাওলাদার,সাগর (২৩), পিতা: সাদ্দাম মোস্তফা,রাফি (১৬), পিতা: কামাল তালুকদার, রিফাত (১৭) পিতা: রুস্তম শিকদার হৃদয় (১৭), পিতা: সুলতান সিকদার,হৃদয় (২) (১৮), (পিতার নাম অজ্ঞাত)অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই ৭ জনের কোর-টিম ছাড়াও এদের সাথে সার্বক্ষণিক আরও প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন উঠতি বয়সী কিশোর ও যুবক যুক্ত রয়েছে। তারা দলবদ্ধ হয়ে নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেশপুর বাজারের বিভিন্ন মোড়, স্কুল-কলেজের আশপাশ এবং নির্জন এলাকায় অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে।মাদকের অর্থ জোগাতে অপরাধের পথস্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গ্যাংয়ের মূল হোতা তপুসহ বাকি সদস্যরা মূলত তীব্র মাদকাসক্ত। প্রতিদিনের ইয়াবা ও গাঁজা কেনার বিপুল অর্থ জোগাড় করতে এরা এলাকায় চুরি, ছিনতাই, জোরপূর্বক চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে মারধরের মতো অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। কোনো মুরুব্বি বা সচেতন নাগরিক এদের এই মাদক সেবনের প্রতিবাদ করলে এই গ্যাংটির সদস্যরা দলবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি এই সুনির্দিষ্ট গ্যাংটির তালিকা ও মাদক বাণিজ্যের তথ্য সামনে আসার পর নিয়ামতি ইউনিয়নে মহেশপুর সহ আশেপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সমাজসেবক: “আমরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি একটি শান্তিময় সমাজের জন্য। আজ ১৬-১৭ বছরের কিশোররা ইয়াবা খেয়ে অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়ায়, এটা মেনে নেওয়া যায় না। শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে তপু যেভাবে পুরো এলাকায় অপরাধের সিন্ডিকেট চালাচ্ছে, তাকে এখনই না থামালে নিয়ামতির,মহেশপুর সহ আশপাশের এলাকার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। প্রশাসনকে অবিলম্বে এই গ্যাং লিডারদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক: “তুহিন, রাফি, রিফাতদের মতো কিশোররা পড়ার টেবিলে থাকার কথা, অথচ তারা সাদ্দাম মোস্তফার ছেলে সাগরের মতো বয়স্ক অপরাধীদের সাথে মিশে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা এদের হাতে মরণঘাতী ইয়াবা ও গাঁজা তুলে দিচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও এলাকার সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনকে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে।”মহেশপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি: “তপু ও তার গ্যাংয়ের ১৫-২০ জন সদস্য নিয়মিত বাজারে মাদক কেনাবেচার নিরাপদ রুট বানিয়েছে। এদের মাদক সেবনের টাকার জোগান দিতে গিয়ে বাজারের ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা নানাভাবে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। বাধা দিলে তারা দলবদ্ধ হয়ে হামলা ও ভাঙচুরের হুমকি দেয়। আমরা ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পুলিশ ও র্যাবের যৌথ সাঁড়াশি অভিযান এখন সময়ের দাবি।”নাসিরাবাদ এলাকার একজন বিশিষ্ট ধর্মীয় ইমাম ও খতিব: “মাদক ও কিশোর অপরাধ সামাজিকভাবে একটি মারাত্মক ব্যাধি। এই তপু গ্যাংয়ের সদস্যরা শুধু মাদকই খাচ্ছে না, বরং এলাকার উঠতি বয়সী তরুণদেরও এই অন্ধকার পথে টেনে নিচ্ছে। আমরা মসজিদের খুতবায় ও ওয়াজ মাহফিলে প্রতিনিয়ত সচেতনতা তৈরি করছি, কিন্তু এদের পেছনে থাকা মাদক ব্যবসায়ী গডফাদারদের নির্মূল করতে না পারলে কেবল সামাজিক সচেতনতায় কাজ হবে না। প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।”
বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে মূল হোতা তপু ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ক্রাইম রিপোর্টারঃ 



















