ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২২ ঘরের ২১টিই খালি, কয়েকটি ঘরে রাখা হচ্ছে খড়কুটো

 

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের ছত্রকান্দা এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২২টি ঘরের মধ্যে ২১টিই দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটি ঘরে খড়কুটো রাখার পাশাপাশি সেগুলো গোয়ালঘর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন বসবাস না করায় কিছু ঘরের দরজা-জানালা ও অন্যান্য অবকাঠামো নষ্ট হতে শুরু করেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরের দরজা-জানালা তালাবদ্ধ। কয়েকটি ঘরের জানালা খড়কুটো দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ঘরগুলোর আশপাশেও অযত্নের ছাপ দেখা যায়। একটি ঘরে একজন উপকারভোগীর থাকার কথা থাকলেও সরেজমিনে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছত্রকান্দা এলাকার ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ২২টি ঘর রয়েছে। তবে বর্তমানে অধিকাংশ ঘরেই কোনো পরিবার বসবাস করছে না। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত এসব ঘর পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, আব্বাস প্যাদা, মকবুল প্যাদা, আব্দুর রব প্যাদা, ফোরকান প্যাদা ও ফাতেমা প্যাদাসহ কয়েকজন ওই প্রকল্পের কয়েকটি ঘর দখলে রেখেছেন। তাঁদের কারণে সাধারণ মানুষ সেখানে যেতে পারেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েকটি ঘর দখলে রাখা হয়েছে এবং সেখানে গরু-ছাগল রাখায় ঘরগুলো নোংরা হয়ে পড়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্বাস প্যাদা ও মকবুল প্যাদা। তাঁদের ভাষ্য, যাঁদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কেউ সেখানে বসবাস করেন না। সরকারি তালা ভেঙে সেখানে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চলত। এ কারণে নিজেদের উদ্যোগে তাঁরা চারটি ঘরে তালা দিয়েছেন এবং সেসব ঘরে খড়কুটো রেখেছেন। তবে সেখানে কোনো গরু রাখা হয়নি বলে তাঁরা দাবি করেন। বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা ফিরে এলে ঘরগুলো পরিষ্কার করে দেওয়ার কথাও জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি আবেদন করেন। বরাদ্দ পাওয়া ঘর কোনোভাবেই বেচাকেনা করা যাবে না। যেসব ঘর খালি রয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রয়োজন হলে বরাদ্দ বাতিল করে নতুন করে উপযুক্ত উপকারভোগীদের মধ্যে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে।

সরকারি অর্থে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকার বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঘরগুলোও রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বাউফলের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২২ ঘরের ২১টিই খালি, কয়েকটি ঘরে রাখা হচ্ছে খড়কুটো

আপডেট সময় : ০৫:৩১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের ছত্রকান্দা এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২২টি ঘরের মধ্যে ২১টিই দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটি ঘরে খড়কুটো রাখার পাশাপাশি সেগুলো গোয়ালঘর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন বসবাস না করায় কিছু ঘরের দরজা-জানালা ও অন্যান্য অবকাঠামো নষ্ট হতে শুরু করেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরের দরজা-জানালা তালাবদ্ধ। কয়েকটি ঘরের জানালা খড়কুটো দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ঘরগুলোর আশপাশেও অযত্নের ছাপ দেখা যায়। একটি ঘরে একজন উপকারভোগীর থাকার কথা থাকলেও সরেজমিনে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছত্রকান্দা এলাকার ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ২২টি ঘর রয়েছে। তবে বর্তমানে অধিকাংশ ঘরেই কোনো পরিবার বসবাস করছে না। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত এসব ঘর পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, আব্বাস প্যাদা, মকবুল প্যাদা, আব্দুর রব প্যাদা, ফোরকান প্যাদা ও ফাতেমা প্যাদাসহ কয়েকজন ওই প্রকল্পের কয়েকটি ঘর দখলে রেখেছেন। তাঁদের কারণে সাধারণ মানুষ সেখানে যেতে পারেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েকটি ঘর দখলে রাখা হয়েছে এবং সেখানে গরু-ছাগল রাখায় ঘরগুলো নোংরা হয়ে পড়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্বাস প্যাদা ও মকবুল প্যাদা। তাঁদের ভাষ্য, যাঁদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কেউ সেখানে বসবাস করেন না। সরকারি তালা ভেঙে সেখানে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চলত। এ কারণে নিজেদের উদ্যোগে তাঁরা চারটি ঘরে তালা দিয়েছেন এবং সেসব ঘরে খড়কুটো রেখেছেন। তবে সেখানে কোনো গরু রাখা হয়নি বলে তাঁরা দাবি করেন। বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা ফিরে এলে ঘরগুলো পরিষ্কার করে দেওয়ার কথাও জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি আবেদন করেন। বরাদ্দ পাওয়া ঘর কোনোভাবেই বেচাকেনা করা যাবে না। যেসব ঘর খালি রয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রয়োজন হলে বরাদ্দ বাতিল করে নতুন করে উপযুক্ত উপকারভোগীদের মধ্যে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে।

সরকারি অর্থে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকার বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঘরগুলোও রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।