ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের রাজত্ব: কাঠগড়ায় সাবেক অফিস সহকারী ফরিদ হাওলাদার

 

 

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভয়াবহ ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক অফিস সহকারী মোহাম্মদ ফরিদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং তৎকালীন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি বছরের পর বছর এই অপকর্ম চালিয়ে গেছেন বলে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের মৃত নাজিম আলী হাওলাদারের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র মোহাম্মদ ফরিদ হাওলাদার বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে সাধারণ শিক্ষকদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করাই ছিল তার মূল কাজ। শিক্ষকদের টাইম স্কেল, উচ্চতর গ্রেড, বদলি, পেনশন এবং পিআরএল-এর ফাইল ছাড়ানোর ক্ষেত্রে ফাইল প্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের মোটা টাকা ঘুষ নিতেন তিনি। টাকা না দিলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা বা নানা অজুহাতে ফাইল বাতিল করার ভয় দেখাতেন এই কর্মচারী।

এই দুর্নীতির বিষয়ে ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক মো: আমিনুল ইসলাম তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২০২২ সালে আমার উচ্চতর গ্রেডের ফাইলটি জেলা শিক্ষা অফিসে জমা হয়। অফিস সহকারী ফরিদ হাওলাদার ফাইলে সামান্য ভুলের অজুহাত দেখিয়ে সেটি আটকে রাখেন। তিনি সরাসরি আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। আমি দিতে অস্বীকার করায় ফাইলটি ছয় মাস টেবিল থেকে নড়েনি। শেষে বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে ওনাকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে আমার ফাইল পাস হয়। আমরা এই অত্যাচারী কর্মচারীর বিচার চাই।”একই অফিসের ঘুষ বাণিজ্যের শিকার আরেক ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা: রাবেয়া বেগম বলেন, “২০২৩ সালের শেষের দিকে আমি পিআরএল (PRL) ও পেনশনের কাগজের জন্য বরগুনা অফিসে দিনের পর দিন ঘুরেছি। ফরিদ হাওলাদার আমার ফাইল আটকে রেখে বলেন, ‘উপরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে হবে, টাকা ছাড়া পেনশন হবে না।’ একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের সাথেও ওনার কোনো ভদ্রতা ছিল না। আমার পেনশনের ফাইল ছাড়াতে ওনাকে নগদ ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়েছিল। ওনার উপার্জিত এই অবৈধ কোটি টাকার তদন্ত হওয়া দরকার।
“অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের স্লিপ বরাদ্দ, ভুয়া বিল-ভাউচার পাসের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাটের পেছনেও ছিল ফরিদ হাওলাদারের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ আয়ের মাধ্যমে তিনি বরিশাল ও বরগুনায় নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

স্থানীয় ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হয়েও তিনি বরিশাল শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নতুন বাজারের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি মূল্যবান প্লট বা জমির মালিক হয়েছেন, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। শুধু তাই নয়, তার নিজ গ্রাম নিয়ামতি বাজারের প্রাণকেন্দ্রেও গড়ে তুলেছেন আরও প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তোমাকে ছাড়াও তার স্ত্রীর নামে রয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা সম্পদ তার ব্যাংক হিসাব তলব করলে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের সন্ধান পাওয়া যাবে।

একজন সাধারণ অফিস সহকারীর বেতনের সাথে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের কোনো সংগতি নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

তার এই অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) বরাবর অভিযোগ দায়ের করে প্রস্তুত চলছে।

এই বিষয়ে ফরিদ হাওলাদার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের রাজত্ব: কাঠগড়ায় সাবেক অফিস সহকারী ফরিদ হাওলাদার

আপডেট সময় : ০২:২১:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

 

 

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভয়াবহ ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক অফিস সহকারী মোহাম্মদ ফরিদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং তৎকালীন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি বছরের পর বছর এই অপকর্ম চালিয়ে গেছেন বলে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের মৃত নাজিম আলী হাওলাদারের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র মোহাম্মদ ফরিদ হাওলাদার বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে সাধারণ শিক্ষকদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করাই ছিল তার মূল কাজ। শিক্ষকদের টাইম স্কেল, উচ্চতর গ্রেড, বদলি, পেনশন এবং পিআরএল-এর ফাইল ছাড়ানোর ক্ষেত্রে ফাইল প্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের মোটা টাকা ঘুষ নিতেন তিনি। টাকা না দিলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা বা নানা অজুহাতে ফাইল বাতিল করার ভয় দেখাতেন এই কর্মচারী।

এই দুর্নীতির বিষয়ে ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক মো: আমিনুল ইসলাম তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২০২২ সালে আমার উচ্চতর গ্রেডের ফাইলটি জেলা শিক্ষা অফিসে জমা হয়। অফিস সহকারী ফরিদ হাওলাদার ফাইলে সামান্য ভুলের অজুহাত দেখিয়ে সেটি আটকে রাখেন। তিনি সরাসরি আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। আমি দিতে অস্বীকার করায় ফাইলটি ছয় মাস টেবিল থেকে নড়েনি। শেষে বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে ওনাকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে আমার ফাইল পাস হয়। আমরা এই অত্যাচারী কর্মচারীর বিচার চাই।”একই অফিসের ঘুষ বাণিজ্যের শিকার আরেক ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা: রাবেয়া বেগম বলেন, “২০২৩ সালের শেষের দিকে আমি পিআরএল (PRL) ও পেনশনের কাগজের জন্য বরগুনা অফিসে দিনের পর দিন ঘুরেছি। ফরিদ হাওলাদার আমার ফাইল আটকে রেখে বলেন, ‘উপরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে হবে, টাকা ছাড়া পেনশন হবে না।’ একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের সাথেও ওনার কোনো ভদ্রতা ছিল না। আমার পেনশনের ফাইল ছাড়াতে ওনাকে নগদ ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়েছিল। ওনার উপার্জিত এই অবৈধ কোটি টাকার তদন্ত হওয়া দরকার।
“অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের স্লিপ বরাদ্দ, ভুয়া বিল-ভাউচার পাসের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাটের পেছনেও ছিল ফরিদ হাওলাদারের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ আয়ের মাধ্যমে তিনি বরিশাল ও বরগুনায় নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

স্থানীয় ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হয়েও তিনি বরিশাল শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নতুন বাজারের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি মূল্যবান প্লট বা জমির মালিক হয়েছেন, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। শুধু তাই নয়, তার নিজ গ্রাম নিয়ামতি বাজারের প্রাণকেন্দ্রেও গড়ে তুলেছেন আরও প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তোমাকে ছাড়াও তার স্ত্রীর নামে রয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা সম্পদ তার ব্যাংক হিসাব তলব করলে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের সন্ধান পাওয়া যাবে।

একজন সাধারণ অফিস সহকারীর বেতনের সাথে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের কোনো সংগতি নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

তার এই অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) বরাবর অভিযোগ দায়ের করে প্রস্তুত চলছে।

এই বিষয়ে ফরিদ হাওলাদার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।