বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় স্কুলছাত্র ইমন হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানবন্ধন ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী
বরগুনার আমতলী সরকারি একে হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র জাবেদ ইমন হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
গত ২৯ জুলাই উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুর বুনিয়া স্লুইজ গেট এলাকা থেকে ইমনের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন পরিচয় পাওয়া না গেলেও গত ৬ আগস্ট আমতলী থানা পুলিশ লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে।
নিহত ইমন উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পূর্ব আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের আউয়াল প্যাদার ছেলে। সে আমতলী সরকারি একে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশের পক্ষ থেকে পরিচয় নিশ্চিতের খবর সংবাদ মাধ্যমে আসলে, ইমনের পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এর প্রতিবাদে আজ রবিবার ৯ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আমতলী পৌর শহরে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে আমতলী সরকারি একে হাই স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা ইমন হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি তালতলী থানার নিদ্রা ছকিনার নৌ পুলিশ ও আমতলী থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করছে। হত্যাকারী যেই হোক অচিরেই তাদের খুঁজে বের করা হবে।”
নিদ্রা ছকিনা নৌ পুলিশের ইন্সপেক্টর সাগর ভদ্র বলেন, “ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আমতলী থানার সমন্বয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছি।”
আমতলী সরকারি একে হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান বলেন, “ইমন নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল। নিহত ইমনের মাগফিরাত কামনায় আজ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। অত্র স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।”
মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রের এমন মর্মান্তিক (বস্তাবন্দি) মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। এখন ইমন হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার অপেক্ষায় পরিবার ও এলাকাবাসী।
মোঃ আরিফ হোসেন খান। দৈনিক বাংলার সংবাদ। স্টাফ রিপোর্টার। বরগুনা। 



















