নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারী’ বা রিং জাল ব্যবহার করে মাছ শিকারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর। অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জালগুলো ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) উপজেলার আবাদপুর বিল ও ফতেজঙ্গপুর এলাকার বিভিন্ন মাঠে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে পরিচালিত অভিযানে জলাশয়ের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে নিষিদ্ধ জালগুলো জব্দ করা হয়।
স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চায়না দুয়ারী জালে ছোট মাছ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আকারের মাছ একসঙ্গে আটকা পড়ে। বর্ষাকালে অনেক দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের সময় হওয়ায় এ ধরনের জালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার অব্যাহত থাকলে খাল-বিলের প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের প্রাপ্যতাও কমে যেতে পারে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিল্পী রায় বলেন, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ ধরনের নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চায়না দুয়ারী জাল জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এর আগেও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করে দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মৎস্য দপ্তরের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান ছনি বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার বন্ধে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। নিষিদ্ধ এ জালের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মৎস্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গেলে দেশীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব। এ জন্য প্রশাসনিক অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
মোঃ হিমেল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার 



















