ঢাকা ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বকেয়া কর ও আপীলের শুনানির নামে ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, দুদকে অভিযোগ

একটি উৎপাদনমুখী প্লাস্টিক কারখানার বকেয়া কর ও অন্যান্য পাওনা এবং এই সংক্রান্ত কাস্টমস আইনের আওতাভুক্ত একটি আপীলের শুনানির নামে ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। এনিয়ে ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী দূর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আশরাফুল ইসলাম রাজধানী ঢাকার নিকেতনের বাসিন্দা। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঢাকার জিপিও তোপখানা রোডের মো. ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন। তার বিরুদ্ধে দমন কমিশন-দুদকের চেয়ারম্যান, কমিশনার (তদন্ত) ও কমিশনার (অনুসন্ধান) বরাবর লিখিত অভিযোগ ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম।

অভিযোগের নথি, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, কারখানার বকেয়া কর ও অন্যান্য পাওনা বাবদ ৫৫ লাখ টাকা এবং এই সংক্রান্ত কাস্টমস আইনের আওতাভুক্ত একটি আপীলের শুনানি ও আনুষাঙ্গিক খরচের জন্য ২৫ লাখ মিলে মোট ৮০ লাখ টাকা নেন আইনজীবী পরিচয়দানকারী দেলোয়ার হোসেন। টাকাগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা না করায় খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, এসব টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি।

আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়, এসব টাকার জমা রাখার ব্যাংক একাউন্টে। ২০২৩ সালের ০৮ জানুয়ারী ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলামের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা নেয়ার পর সেই টাকার ৪০ লাখ টাকা ১০ জানুয়ারী ইসলামী ব্যাংকের পল্টন শাখার একটি একাউন্টে জমা করেন দেলোয়ার। পরবর্তীতে একই একাউন্টে ১৫ জানুয়ারী আরও ৩৫ লাখ টাকা জমা রাখেন। বাকি টাকাগুলোও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর কোন একটি ব্যাংকে জমা করেছেন।

ব্যবসায়ী আশরাফুল হক জানান, দেলোয়ার হোসেন একজন আইনজীবী নামধারী প্রতারক। তার প্রতারণার বিষয়ে ঢাকার রমনা থানাসহ রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় লিখিত অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অভিযোগ দায়েরকারী ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা শারীরিকভাবে মারধরের শিকার হয়ে রক্তাক্ত জখম হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বিষয়গুলো স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি হয়। তার প্রতারণার কারনে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটির চলমান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মৌখিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করার কথা বলে ৮০ লাখ টাকা নিয়ে কাজ না করে বরং তা আত্মসাত করেছেন দেলোয়ার হোসেন। কাজ না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইতে গেলেও আমাদেরকে প্রাননাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন দেলোয়ার। পরবর্তীতে উপায় না পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক একাউন্টের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ ও সংযুক্ত করে দুদকে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্ত হলে দেলোয়ার হোসেনের সকল অপকর্ম ও অপরাধের তথ্য-প্রমাণ বেরিয়ে আসবে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ম্যাসেজ দিলেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বকেয়া কর ও আপীলের শুনানির নামে ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, দুদকে অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:০০:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

একটি উৎপাদনমুখী প্লাস্টিক কারখানার বকেয়া কর ও অন্যান্য পাওনা এবং এই সংক্রান্ত কাস্টমস আইনের আওতাভুক্ত একটি আপীলের শুনানির নামে ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। এনিয়ে ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী দূর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আশরাফুল ইসলাম রাজধানী ঢাকার নিকেতনের বাসিন্দা। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঢাকার জিপিও তোপখানা রোডের মো. ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন। তার বিরুদ্ধে দমন কমিশন-দুদকের চেয়ারম্যান, কমিশনার (তদন্ত) ও কমিশনার (অনুসন্ধান) বরাবর লিখিত অভিযোগ ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম।

অভিযোগের নথি, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, কারখানার বকেয়া কর ও অন্যান্য পাওনা বাবদ ৫৫ লাখ টাকা এবং এই সংক্রান্ত কাস্টমস আইনের আওতাভুক্ত একটি আপীলের শুনানি ও আনুষাঙ্গিক খরচের জন্য ২৫ লাখ মিলে মোট ৮০ লাখ টাকা নেন আইনজীবী পরিচয়দানকারী দেলোয়ার হোসেন। টাকাগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা না করায় খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, এসব টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি।

আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়, এসব টাকার জমা রাখার ব্যাংক একাউন্টে। ২০২৩ সালের ০৮ জানুয়ারী ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলামের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা নেয়ার পর সেই টাকার ৪০ লাখ টাকা ১০ জানুয়ারী ইসলামী ব্যাংকের পল্টন শাখার একটি একাউন্টে জমা করেন দেলোয়ার। পরবর্তীতে একই একাউন্টে ১৫ জানুয়ারী আরও ৩৫ লাখ টাকা জমা রাখেন। বাকি টাকাগুলোও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর কোন একটি ব্যাংকে জমা করেছেন।

ব্যবসায়ী আশরাফুল হক জানান, দেলোয়ার হোসেন একজন আইনজীবী নামধারী প্রতারক। তার প্রতারণার বিষয়ে ঢাকার রমনা থানাসহ রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় লিখিত অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অভিযোগ দায়েরকারী ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা শারীরিকভাবে মারধরের শিকার হয়ে রক্তাক্ত জখম হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বিষয়গুলো স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি হয়। তার প্রতারণার কারনে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটির চলমান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মৌখিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করার কথা বলে ৮০ লাখ টাকা নিয়ে কাজ না করে বরং তা আত্মসাত করেছেন দেলোয়ার হোসেন। কাজ না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইতে গেলেও আমাদেরকে প্রাননাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন দেলোয়ার। পরবর্তীতে উপায় না পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক একাউন্টের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ ও সংযুক্ত করে দুদকে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্ত হলে দেলোয়ার হোসেনের সকল অপকর্ম ও অপরাধের তথ্য-প্রমাণ বেরিয়ে আসবে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ম্যাসেজ দিলেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।