ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে লিজকৃত পুকুর থেকে ৬ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিপূরণ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি

ফুলবাড়ীতে লিজকৃত পুকুর থেকে ৬ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিপূরণ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় সরকারি নিয়মে লিজ নেওয়া একটি পুকুর থেকে রাতের আঁধারে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের মাছ তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মৎস্য চাষী শ্রী পূর্ণ চন্দ্র দাস।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন রাবেয়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের একটি অর্পিত সম্পত্তির পুকুর সরকারি বিধি অনুযায়ী ইজারা নিয়ে নিয়মিত ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করে মাছ চাষ করে আসছেন। গত ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পুকুর ইজারার নিলামে তিনি অংশ নিলেও সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে অন্য একজনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু নতুন ইজারার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগেই গত ২৭ জুলাই রাতে নুরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগীরা জোরপূর্বক পুকুর থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের মাছ তুলে নিয়ে যান বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার সময় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা মাছের খামার থেকে এভাবে মাছ তুলে নেওয়ায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ মূল্যায়ন, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। আগের ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুকুরটি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি কোনো মাছ লুটের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ভুক্তভোগী তাঁর কাছে সরাসরি কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি অবহিত করেছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, মাছ লুটপাটের বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ফুলবাড়ীতে লিজকৃত পুকুর থেকে ৬ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিপূরণ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি

আপডেট সময় : ০২:২৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

ফুলবাড়ীতে লিজকৃত পুকুর থেকে ৬ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিপূরণ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় সরকারি নিয়মে লিজ নেওয়া একটি পুকুর থেকে রাতের আঁধারে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের মাছ তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মৎস্য চাষী শ্রী পূর্ণ চন্দ্র দাস।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন রাবেয়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের একটি অর্পিত সম্পত্তির পুকুর সরকারি বিধি অনুযায়ী ইজারা নিয়ে নিয়মিত ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করে মাছ চাষ করে আসছেন। গত ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পুকুর ইজারার নিলামে তিনি অংশ নিলেও সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে অন্য একজনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু নতুন ইজারার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগেই গত ২৭ জুলাই রাতে নুরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগীরা জোরপূর্বক পুকুর থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের মাছ তুলে নিয়ে যান বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার সময় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা মাছের খামার থেকে এভাবে মাছ তুলে নেওয়ায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ মূল্যায়ন, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। আগের ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুকুরটি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি কোনো মাছ লুটের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ভুক্তভোগী তাঁর কাছে সরাসরি কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি অবহিত করেছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, মাছ লুটপাটের বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।