ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুই কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বদলী

ফুলপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুই কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বদলী

ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত দুই উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকে (সেকমো) বদলী করা হয়েছে। জানা যায়, ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ভারপ্রাপ্ত ডা. ফয়সাল আহমেদ গত ২৯ জুন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোঃ মফিজুর রহমান কে গৌরীপুর উপজেলায় বারিজুরি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এবং মোঃ মিজানুর রহমান কে একই উপজেলার সাহানাটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বদলীর আদেশ দেন।

তাদের তিন কর্ম দিবসের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। বদলীর আদেশের চিঠি ইমেইলে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। বদলী আদেশ তদন্ত কমিটির স্মারক নং ৪৫.৬১৮১.০১.০০.১৩.২০২৬.৪৩৬ তারিখ ০৯-০৬-২০২৬ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার স্মারক নং ৪৫.৬১.৮১.০১.০০০.১৩.২০২৬.৫১৮ তারিখ ২৫-০৬-২০২৬ এর পরিপ্রেক্ষিতে শৃঙ্খলা জড়িত কারণে দুই সেকমো কে বর্তমান পদ ও কর্মস্থল থেকে বদলীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেকমো দের দৌরাত্ম নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাহাত চৌধুরী গত ২৩ই মে ইনচার্জ রুবেল মিয়া কে বদলী করে অনন্ত কুমার বিশ্বাস কে ইনচার্জের দায়িত্ব আদেশ দেন। একই দিন তিনি জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মোঃ আব্দুল মুন্নাফ কে সভাপতি করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির ১৩ দিন সরেজমিনে তদন্ত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত এমনকি অফিস রেকর্ড পর্যবেক্ষণ করে গত ৭ই জুন রিপোর্ট পেশ করেন। তদন্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন বদলীর এই আদেশ দেন।

তদন্ত রিপোর্টে দেখা যায় যে বদলীকৃত দুই সেকমো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে আসা রোগীদের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন রেজিস্ট্রি খাতা সিরিয়াল নম্বরে পরিবর্তন। একই নম্বরে একাধিক ব্যক্তির নামে এন্ট্রি। ভুয়া নম্বর ব্যবহার এবং দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে কর্মরত থাকার সততা দিয়েছেন। তাছাড়া ইনচার্জ থেকে বাদ দেওয়া রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে একই অভিযোগের পাশাপাশি সার্জিকেল যন্ত্রপাতি জীবাণু মুক্ত করার স্ট্রেরিলাইজেশন মেশিন ব্যবহারের উদাসীনতার প্রমাণ মিলেছে বলে তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে শাস্তি সহ বদলীর দাবি জানিয়েছেন নোটিজেন ও ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি মোঃ সাব্বির হোসাইন নামে আরেক সেকমো নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এবং নোটিজেনরা তারও বদলীর দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ফুলপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুই কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বদলী

আপডেট সময় : ০১:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত দুই উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকে (সেকমো) বদলী করা হয়েছে। জানা যায়, ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ভারপ্রাপ্ত ডা. ফয়সাল আহমেদ গত ২৯ জুন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোঃ মফিজুর রহমান কে গৌরীপুর উপজেলায় বারিজুরি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এবং মোঃ মিজানুর রহমান কে একই উপজেলার সাহানাটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বদলীর আদেশ দেন।

তাদের তিন কর্ম দিবসের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। বদলীর আদেশের চিঠি ইমেইলে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। বদলী আদেশ তদন্ত কমিটির স্মারক নং ৪৫.৬১৮১.০১.০০.১৩.২০২৬.৪৩৬ তারিখ ০৯-০৬-২০২৬ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার স্মারক নং ৪৫.৬১.৮১.০১.০০০.১৩.২০২৬.৫১৮ তারিখ ২৫-০৬-২০২৬ এর পরিপ্রেক্ষিতে শৃঙ্খলা জড়িত কারণে দুই সেকমো কে বর্তমান পদ ও কর্মস্থল থেকে বদলীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেকমো দের দৌরাত্ম নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাহাত চৌধুরী গত ২৩ই মে ইনচার্জ রুবেল মিয়া কে বদলী করে অনন্ত কুমার বিশ্বাস কে ইনচার্জের দায়িত্ব আদেশ দেন। একই দিন তিনি জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মোঃ আব্দুল মুন্নাফ কে সভাপতি করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির ১৩ দিন সরেজমিনে তদন্ত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত এমনকি অফিস রেকর্ড পর্যবেক্ষণ করে গত ৭ই জুন রিপোর্ট পেশ করেন। তদন্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন বদলীর এই আদেশ দেন।

তদন্ত রিপোর্টে দেখা যায় যে বদলীকৃত দুই সেকমো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে আসা রোগীদের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন রেজিস্ট্রি খাতা সিরিয়াল নম্বরে পরিবর্তন। একই নম্বরে একাধিক ব্যক্তির নামে এন্ট্রি। ভুয়া নম্বর ব্যবহার এবং দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে কর্মরত থাকার সততা দিয়েছেন। তাছাড়া ইনচার্জ থেকে বাদ দেওয়া রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে একই অভিযোগের পাশাপাশি সার্জিকেল যন্ত্রপাতি জীবাণু মুক্ত করার স্ট্রেরিলাইজেশন মেশিন ব্যবহারের উদাসীনতার প্রমাণ মিলেছে বলে তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে শাস্তি সহ বদলীর দাবি জানিয়েছেন নোটিজেন ও ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি মোঃ সাব্বির হোসাইন নামে আরেক সেকমো নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এবং নোটিজেনরা তারও বদলীর দাবি জানিয়েছেন।