ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার বওলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের হারুন মিয়ার মেয়ে তার স্বামী রাকিব মিয়া পার্শ্ববর্তী ঢাকুয়া গ্রামের হামিদ উদ্দিনের ছেলে। হত দরিদ্র বাবার আদরের দোলালি সুমি স্বপ্ন ভরা চোখে নতুন জীবনের আশা নিয়ে বাবার বাড়ি ছেড়ে স্বামীর সংসারে পা রেখেছিলেন।
সেই সুমি আজ হতদরিদ্র বাবার ভিটায় ফিরেছেন নিথর দেহ হয়ে। বওলার সুমির মরদেহ এম্বুলেন্সে রেখেই পালিয়েছে স্বামী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় প্রায় তিন বছর আগে ভালোবাসা আর হাজারো স্বপ্ন নিয়ে সুমির সংসার শুরু হয়। তাদের ঘর আলো করো জন্ম নেয় এক ফুটফুটে শিশু যার বয়স এখন দেড় বছর।
স্বজনদের অভিযোগ বিয়ের পর নারায়ণগঞ্জের একটি ভাড়া বাসায় বসবাসকালে স্বামী নির্যাতনের স্বীকার হতেন। মাদকাসক্ত স্বামী রাকিব পরবর্তীতে আসক্তির কারণে সংসারে তার অশান্তি লেগে থাকতো। স্বামীর মারদরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে সুমি। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু হাসপাতালের দরজায় পৌঁছানোর আগেই জীবন যুদ্ধে হেরে গিয়ে এম্বুলেন্সের ভিতরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে হতভাগী সুমি।
যে কাঁধে মাথা রেখে সারা জীবন পথ চলার স্বপ্ন দেখেছিলো সেই মানুষটির বিরুদ্ধে উঠেছে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ। আর জীবনের শেষ মুহুর্তে অভিযোগ অনুযায়ী সেই স্বামীই নাকি মরদেহ এম্বুলেন্সে রেখে পালিয়ে গেলেন। সুমির মৃত্যুর খবর মোবাইল ফোনে জানিয়ে রাকিব মিয়া ফোন বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় এলাকাবাসী ও স্বজনরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বওলা ইউনিয়নের জনসাধারণ।
মোঃ হেলাল উদ্দিন সরকার। 



















