ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা মারধর, অপহরণের চেষ্টা ও অপদস্থের অভিযোগে চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিপনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মারধর, অপহরণের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি, জোরপূর্বক খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং ফেসবুক লাইভে অপদস্থ করার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

২১ জুলাই মঙ্গলবার চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভূজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূজপুর এলাকার ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী মো. হাসেম (৪০)।

আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিপন, শওকত ওসমান, আজগর সালেহী, জয়নাল আজহার, মাহিন হাসান, জামাল আজহার, মুহিব্বুল্লাহ আমিনি, খায়রুল বশর, আবু বক্কর, আব্দুর রহিম এবং মাওলানা আবু তালেবকে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করেন। সম্প্রতি একটি রাস্তা সংস্কারকাজ নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে করা একটি ভিডিও প্রকাশের পর আসামিরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ হন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১২ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা তার দোকানে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে তাকে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাকে কান ধরে উঠবস করানো হয় এবং সেই দৃশ্য ফেসবুক লাইভে প্রচার করা হয়, যা তার সামাজিক মর্যাদাহানির কারণ হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের কয়েকজন জোরপূর্বক ৩০০ টাকার একটি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বাদীর স্বাক্ষর নেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ করলে ওই স্ট্যাম্প ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন বাদী। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, মানহানির প্রতিকার এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্পের অপব্যবহার রোধে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিপন বলেন, “মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।”

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম বলেন, “মামলাটি চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।”

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা মারধর, অপহরণের চেষ্টা ও অপদস্থের অভিযোগে চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০১:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিপনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মারধর, অপহরণের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি, জোরপূর্বক খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং ফেসবুক লাইভে অপদস্থ করার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

২১ জুলাই মঙ্গলবার চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভূজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূজপুর এলাকার ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী মো. হাসেম (৪০)।

আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিপন, শওকত ওসমান, আজগর সালেহী, জয়নাল আজহার, মাহিন হাসান, জামাল আজহার, মুহিব্বুল্লাহ আমিনি, খায়রুল বশর, আবু বক্কর, আব্দুর রহিম এবং মাওলানা আবু তালেবকে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করেন। সম্প্রতি একটি রাস্তা সংস্কারকাজ নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে করা একটি ভিডিও প্রকাশের পর আসামিরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ হন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১২ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা তার দোকানে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে তাকে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাকে কান ধরে উঠবস করানো হয় এবং সেই দৃশ্য ফেসবুক লাইভে প্রচার করা হয়, যা তার সামাজিক মর্যাদাহানির কারণ হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের কয়েকজন জোরপূর্বক ৩০০ টাকার একটি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বাদীর স্বাক্ষর নেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ করলে ওই স্ট্যাম্প ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন বাদী। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, মানহানির প্রতিকার এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্পের অপব্যবহার রোধে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিপন বলেন, “মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।”

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম বলেন, “মামলাটি চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।”