ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়িতে সম্পত্তি বিরোধে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষপাতের দাবি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার সুয়াবিল এলাকায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একইসঙ্গে থানায় মামলা গ্রহণে অনীহা ও প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগও তুলেছেন তারা।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২৬ মে চুরখাঁহাট বাজারসংলগ্ন আবুল খায়ের সওদাগরের বাড়িতে মৃত আবদুস সালামের দুই ছেলে মো. হাসান ও মো. আজিজের দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়।

হাসানের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে একটি ঘর ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। এতে মো. হাসান গুরুতর আহত হন এবং তাঁর একটি হাত ভেঙে যায় বলে দাবি করা হয়।

তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে পরিবারটি সংবাদ সম্মেলনও করেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে। তিনি বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি সম্পত্তি-সংক্রান্ত এবং বর্তমানে বিচারাধীন। অভিযোগকারী পক্ষের তুলনায় প্রতিপক্ষের লোকজন বেশি আহত হয়েছেন। এ কারণে তাঁদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে হাসানের চাচা মো. আবু তৈয়ব অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ বিভিন্ন মহলের প্রভাব খাটিয়ে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, জমি মাপজোক সংক্রান্ত একটি বিষয়ে অসুস্থতার কারণে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হতে না পারায় পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তিনি অপমানজনক আচরণের শিকার হন। এমনকি তাঁর কাছে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া তাঁর দাড়ি নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। তবে পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি।

অন্যদিকে মো. আজিজ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বরং হাসানই আমার ওপর আক্রমণ করেছেন।” তবে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আদালত ও প্রশাসনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

ফটিকছড়িতে সম্পত্তি বিরোধে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষপাতের দাবি

আপডেট সময় : ০৭:২৬:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার সুয়াবিল এলাকায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একইসঙ্গে থানায় মামলা গ্রহণে অনীহা ও প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগও তুলেছেন তারা।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২৬ মে চুরখাঁহাট বাজারসংলগ্ন আবুল খায়ের সওদাগরের বাড়িতে মৃত আবদুস সালামের দুই ছেলে মো. হাসান ও মো. আজিজের দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়।

হাসানের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে একটি ঘর ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। এতে মো. হাসান গুরুতর আহত হন এবং তাঁর একটি হাত ভেঙে যায় বলে দাবি করা হয়।

তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে পরিবারটি সংবাদ সম্মেলনও করেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে। তিনি বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি সম্পত্তি-সংক্রান্ত এবং বর্তমানে বিচারাধীন। অভিযোগকারী পক্ষের তুলনায় প্রতিপক্ষের লোকজন বেশি আহত হয়েছেন। এ কারণে তাঁদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে হাসানের চাচা মো. আবু তৈয়ব অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ বিভিন্ন মহলের প্রভাব খাটিয়ে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, জমি মাপজোক সংক্রান্ত একটি বিষয়ে অসুস্থতার কারণে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হতে না পারায় পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তিনি অপমানজনক আচরণের শিকার হন। এমনকি তাঁর কাছে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া তাঁর দাড়ি নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। তবে পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি।

অন্যদিকে মো. আজিজ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বরং হাসানই আমার ওপর আক্রমণ করেছেন।” তবে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আদালত ও প্রশাসনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।