কক্সবাজারের টেকনাফে এক প্রবাসীর কষ্টার্জিত অর্থে কেনা শতক জমি রাতের অন্ধকারে জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শিলখালী (জাহাজপুরা) মৌজায় অবস্থিত দীর্ঘ ১৫ বছরের নিষ্কণ্টক এই সম্পদ রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী সৌদি প্রবাসী ও স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ তাহের।
ঘটনায় জড়িত ১ নম্বর আসামি নুরু সালাম এবং তাঁর ছেলে ২ নম্বর আসামি জাহাঙ্গীর আলম কে অভিযুক্ত করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের হলবনিয়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও প্রবাসী মোহাম্মদ তাহের ২০১২ সালে বাহারছড়া ইউনিয়নের শিলখালী মৌজার বিএস ৩৫৭ নম্বর খতিয়ানের ৫ ৩৩ ৩ ও ৫ ৩ ৬ ৩ দাগ থেকে সরকারি সব নিয়ম মেনে ১৭ শতক জমি ক্রয় করেন। জাহাজপুরা পুরান বাজারের অলি আলমের ছেলে আব্দুল আমিন এবং স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনের সরাসরি উপস্থিতিতে জমিটির দলিল রেজিস্ট্রি ও পরবর্তীতে নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন হয়।
খতিয়ান ও ওয়ারিশি সূত্র মতে, বিএস ৩৫৭ নম্বর খতিয়ানের মোট জমি ১ একর ৭১ শতক। শরীয়াহ ফরায়েজ অনুযায়ী সেখানে মোট ১১ জন ওয়ারিশের মধ্যে ৩ জন মূল অংশীদার—বাহাদুর রহমান/আব্দুর রহমান, আহমদ হোসেন ও সামশুল আলম। তাঁদের প্রাপ্ত নিজ নিজ বৈধ হিস্যা থেকেই নিয়ম মেনে এই ১৭ শতক জমি কেনেন মোহাম্মদ তাহের।
সুদীর্ঘ ১৫ বছর ধরে জমিটি প্রবাসীর শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে থাকলেও সম্প্রতি তিনি প্রবাসে অবস্থান করার সুযোগে নুরু সালাম ও তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম পুনির নেতৃত্বাধীন একটি চক্র বেআইনিভাবে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তাঁরা রাতে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর চালায় এবং জমিটি জবরদখলের অপচেষ্টা করে।
প্রবাস থেকে পাঠানো এক আবেগঘন আবেদনে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ তাহের বলেন, “বিদেশে হাড়ভাঙা খাটুনির উপার্জনে সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সব আইনি প্রক্রিয়া মেনে জমিটি কিনেছিলাম। দীর্ঘদিন জমিটি আমার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আমি দেশে না থাকার সুযোগে এই প্রভাবশালী চক্রটি তা অন্যায়ভাবে গ্রাস করতে চাইছে। আমি আদালতের ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি এবং এনএসআই ও ডিজিএফআইসহ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি, যেন সত্য উন্মোচিত হয় এবং আমার সম্পদ রক্ষা পায়।”
এদিকে, প্রবাসীর নিষ্কণ্টক সম্পত্তিতে এমন বেআইনি আগ্রাসন ও অন্যায়ের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তপূর্বক দায়ী ভূমিদস্যু চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
টেকনাফে প্রতিনিধি মিসবাহ উল্লাহ প্রতিবেদনে বিস্তারিত দেখুন 



















