ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও বাঁচানো গেল না টেকনাফে আহত বন্য হাতিটিকে, সকালে মৃত্যু

​কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া বন্য হাতিটি শেষ পর্যন্ত মারা গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা, বন বিভাগ এবং বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জনদের একটি দলের নিরলস প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে আজ রবিবার সকাল ৭টায় হাতিটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
​ঘটনা ও চিকিৎসার প্রেক্ষাপট
​উল্লেখ্য, টেকনাফ বনাঞ্চলের একটি পাহাড়ি ঢাল থেকে পা পিছলে নিচে পড়ে গিয়ে হাতিটি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। মেরুদণ্ড ও পায়ে প্রচণ্ড আঘাতের কারণে সেটি নড়াচড়া করার ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে। স্থানীয় বন বিভাগ খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে।
​ঘটনাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং হাতিটির সর্বোচ্চ আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি নির্দেশ দিয়েছিলেন।
​শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টা
​প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর দ্রুত গতিতে একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। চন্দনাইশের ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) বিশেষজ্ঞদের একটি দল হাতিটিকে বাঁচাতে স্যালাইন, ব্যথানাশক এবং প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন।
​উৎসুক জনতার ভিড় এড়াতে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বন বিভাগের সহায়তায় এলাকাটি সুরক্ষিত রাখা হয়েছিল এবং সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছিল। কিন্তু আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে হাতিটির মৃত্যু হয়।
​বন বিভাগের বক্তব্য
​হাতিটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান:
​”মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু পাহাড় থেকে পড়ার কারণে হাতিটির অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আজ সকাল ৭টায় হাতিটি মারা যায়। বন্যপ্রাণীটি বাঁচাতে না পারায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।”
​বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরবর্তী আইনি ও ধর্মীয় (মাটিচাপা দেওয়া) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। হাতিটির মৃত্যুতে স্থানীয় পরিবেশবাদী ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও বাঁচানো গেল না টেকনাফে আহত বন্য হাতিটিকে, সকালে মৃত্যু

আপডেট সময় : ১০:৫৪:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

​কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া বন্য হাতিটি শেষ পর্যন্ত মারা গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা, বন বিভাগ এবং বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জনদের একটি দলের নিরলস প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে আজ রবিবার সকাল ৭টায় হাতিটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
​ঘটনা ও চিকিৎসার প্রেক্ষাপট
​উল্লেখ্য, টেকনাফ বনাঞ্চলের একটি পাহাড়ি ঢাল থেকে পা পিছলে নিচে পড়ে গিয়ে হাতিটি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। মেরুদণ্ড ও পায়ে প্রচণ্ড আঘাতের কারণে সেটি নড়াচড়া করার ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে। স্থানীয় বন বিভাগ খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে।
​ঘটনাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং হাতিটির সর্বোচ্চ আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি নির্দেশ দিয়েছিলেন।
​শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টা
​প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর দ্রুত গতিতে একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। চন্দনাইশের ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) বিশেষজ্ঞদের একটি দল হাতিটিকে বাঁচাতে স্যালাইন, ব্যথানাশক এবং প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন।
​উৎসুক জনতার ভিড় এড়াতে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বন বিভাগের সহায়তায় এলাকাটি সুরক্ষিত রাখা হয়েছিল এবং সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছিল। কিন্তু আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে হাতিটির মৃত্যু হয়।
​বন বিভাগের বক্তব্য
​হাতিটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান:
​”মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু পাহাড় থেকে পড়ার কারণে হাতিটির অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আজ সকাল ৭টায় হাতিটি মারা যায়। বন্যপ্রাণীটি বাঁচাতে না পারায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।”
​বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরবর্তী আইনি ও ধর্মীয় (মাটিচাপা দেওয়া) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। হাতিটির মৃত্যুতে স্থানীয় পরিবেশবাদী ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।