ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিবিআই গাজীপুর জেলার অভিযানে আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ হত্যা মামলার রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন; প্রধান আসামী গ্রেফতার ও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিঃ

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত “আনোয়ারা ম্যানশন ইভ্যালি আবাসিক হোটেল”-এ সংঘটিত গৃহবধূ হত্যা মামলার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামী মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৯)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় তার হেফাজত থেকে ডিসিস্ট মোসাঃ শান্তা বেগম (৩৩)-এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামী বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

গত ২১/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১:৪৮ ঘটিকায় ডিসিস্ট মোসাঃ শান্তা বেগম (৩৩) তার তৃতীয় স্বামী পরিচয়ে আসামী মোঃ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার “আনোয়ারা ম্যানশন ইভ্যালি আবাসিক হোটেল”-এর ৩য় তলার ৩০৭ নং কক্ষ ভাড়া নেন। একই দিন রাত আনুমানিক ১০:৪৮ ঘটিকায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সংবাদের ভিত্তিতে বাসন থানা পুলিশ উক্ত কক্ষ থেকে ডিসিস্টের গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতযুক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে পিবিআই গাজীপুর জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজ্ঞাতনামা মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে। এ ঘটনায় ডিসিস্টের পিতা মোঃ শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে জিএমপি বাসন থানার মামলা নং-৩৯, তারিখ-২৩/০৭/২০২৬, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। মামলাটি পিবিআই-এর তফসিলভুক্ত হওয়ায় ২৩/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে পিবিআই গাজীপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল মহোদয়ের দিকনির্দেশনা এবং পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে ২৩/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকায় ডিএমপি দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকা থেকে প্রধান আসামী মোঃ সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ডিসিস্টের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পরবর্তীতে আদালতে প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সন্দেহের জেরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন হোটেলের কক্ষে পূর্বের বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আসামী ডিসিস্টকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে এবং ঘটনাস্থল থেকে ডিসিস্টের মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার বলেন—

“অজ্ঞাতনামা হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রাপ্তির পরপরই ক্রাইম সিন টিমকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করা হয় এবং একই সঙ্গে পৃথক একটি টিমকে ছায়া তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পিবিআই প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত ধারাবাহিক তদন্তের ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।”

গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

পিবিআই গাজীপুর জেলার অভিযানে আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ হত্যা মামলার রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন; প্রধান আসামী গ্রেফতার ও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিঃ

আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত “আনোয়ারা ম্যানশন ইভ্যালি আবাসিক হোটেল”-এ সংঘটিত গৃহবধূ হত্যা মামলার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামী মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৯)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় তার হেফাজত থেকে ডিসিস্ট মোসাঃ শান্তা বেগম (৩৩)-এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামী বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

গত ২১/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১:৪৮ ঘটিকায় ডিসিস্ট মোসাঃ শান্তা বেগম (৩৩) তার তৃতীয় স্বামী পরিচয়ে আসামী মোঃ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার “আনোয়ারা ম্যানশন ইভ্যালি আবাসিক হোটেল”-এর ৩য় তলার ৩০৭ নং কক্ষ ভাড়া নেন। একই দিন রাত আনুমানিক ১০:৪৮ ঘটিকায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সংবাদের ভিত্তিতে বাসন থানা পুলিশ উক্ত কক্ষ থেকে ডিসিস্টের গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতযুক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে পিবিআই গাজীপুর জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজ্ঞাতনামা মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে। এ ঘটনায় ডিসিস্টের পিতা মোঃ শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে জিএমপি বাসন থানার মামলা নং-৩৯, তারিখ-২৩/০৭/২০২৬, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। মামলাটি পিবিআই-এর তফসিলভুক্ত হওয়ায় ২৩/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে পিবিআই গাজীপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল মহোদয়ের দিকনির্দেশনা এবং পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে ২৩/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকায় ডিএমপি দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকা থেকে প্রধান আসামী মোঃ সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ডিসিস্টের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পরবর্তীতে আদালতে প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সন্দেহের জেরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন হোটেলের কক্ষে পূর্বের বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আসামী ডিসিস্টকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে এবং ঘটনাস্থল থেকে ডিসিস্টের মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার বলেন—

“অজ্ঞাতনামা হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রাপ্তির পরপরই ক্রাইম সিন টিমকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করা হয় এবং একই সঙ্গে পৃথক একটি টিমকে ছায়া তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পিবিআই প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত ধারাবাহিক তদন্তের ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।”

গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।