কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা স্টেশনের পশ্চিম পাশে দীর্ঘ এক যুগ ধরে অবাধে পাহাড় ও বন কেটে কাঠ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন আবসার নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। আইনের তোয়াক্কা না করে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি তার অবৈধ করাত কল ও কাঠের ব্যবসা অব্যাহত রেখেছেন।
অনুসন্ধান ও বক্তব্য:
এ বিষয়ে ‘দৈনিক খবর কক্সবাজার’-এর পক্ষ থেকে অভিযুক্ত আবসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাহাড় ও বন কাটার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, “আমি সরকারি নিলামের কাঠ ক্রয় করে করাত কলে চিরাই করি।”
তবে স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ভিন্ন তথ্য জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা বলেন, “আফসার কোনো আইন-কানুন মানে না। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হলেও সে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা না হলে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বনাঞ্চল একদিন হারিয়ে যাবে।”
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও অভিযোগ:
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, আবসার একজন চিহ্নিত অস্ত্রধারী, মাদক ও ইয়াবা কারবারি। এলাকা সূত্রে জানা গেছে, সে সন্ত্রাসী ও গুন্ডাবাহিনী ভাড়া করে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং জিম্মি করে গত ১২ বছর ধরে টেকনাফের বন উজাড় করে আসছে।
টেকনাফের পাহাড়ি এলাকার সর্বস্তরের মানুষ জোর দাবি জানিয়েছেন:
আবসারকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তার অবৈধ করাত কলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ও সিলগালা করতে হবে।
পাহাড় ও বনাঞ্চল রক্ষায় কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এখনই যদি এই অবৈধ বন নিধন বন্ধ করা না হয়, তবে অচিরেই টেকনাফের পাহাড়ি বনাঞ্চল সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে এবং পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে
বিশেষ প্রতিনিধি, মিসবাহ উল্লাহ 



















