দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলওয়ের সরকারি গাছ কেটে বিক্রির টাকা আত্মসাৎ ও ঘটনাটি রফাদফার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ১৩ দিন অতিবাহিত হলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি এখন পার্বতীপুরের “টক অব দ্য টাউন”-এ পরিণত হয়েছে।
রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর (আবাসিক) অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে পার্বতীপুর এগ্রিকালচার টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভেতরে রেলওয়ের জায়গায় লাগানো ১৪টি বিশাল আকৃতির ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছ কেটে বিক্রি করে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরে গাছগুলো দিনাজপুর-পার্বতীপুর সড়কের রাজাবাসর এলাকায় নাসিরের একটি স-মিলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে পার্বতীপুর রেলওয়ের আবাসিক প্রকৌশলী রাজা আলী শেখ রেলওয়ে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে নাসিরের স-মিলে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় কেটে টুকরো করা কিছু গাছের গুঁড়ি ও ডালপালা উদ্ধার করে রেলওয়ে অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাকি অর্ধেক গাছের গুঁড়ি ও ডালপালা স-মিল মালিক নাসির অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাটা ১৪টি গাছের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা। এ ঘটনায় শুরু থেকেই একটি প্রভাবশালী মহল তৎপর হয়ে ওঠে এবং পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশ না করার শর্তে সাড়ে ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে কিছু সংবাদকর্মীকেও ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মামলা না করায় নানা মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সরকারি সম্পদ লুটের ঘটনায় দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এমন অপকর্ম আরও বেড়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ের আবাসিক প্রকৌশলী রাজা আলী শেখ বলেন, “অর্ধেক গাছ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
প্রতিবেদকঃ স্টাফ রিপোর্টার মোঃ মশিউর ইসলাম 



















