ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বতীপুরে মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কালিরহাট ছোট চণ্ডিপুর গ্রামে মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনাকে রহস্যজনক দাবি করে বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতদের স্বজনরা। তারা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত গৃহবধূ ছবি রানী রায়ের ভাই উজ্জ্বল চন্দ্র রায়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, নিহত ছবি রানী রায় (৩৫) ও তার মেয়ে পল্লবী রানী রায়কে (১৪) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী রিপেন চন্দ্র রায় পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে অন্য এক নারীকে ঘরে তোলার উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছেন। এ ঘটনায় একই গ্রামের আরও দুজন সহযোগী জড়িত থাকতে পারেন বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পল্লবী রানী স্থানীয় গোল্ডেন হোপ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। একই শ্রেণির শিক্ষার্থী ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের দুজারপুর গ্রামের গৌর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৯ জুন গৌর চন্দ্র পল্লবীকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান এবং সেখানে তারা বিয়ে করেন বলে দাবি করা হয়। সে সময় পল্লবীর মা ছবি রানীও তাদের সঙ্গে ছিলেন। পরে স্ত্রী ও মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে রিপেন চন্দ্র রায় পার্বতীপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ২৬ জুন পুলিশ ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে উভয় পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করে।
উজ্জ্বল চন্দ্র রায় আরও বলেন, তার বোনের সঙ্গে স্বামীর পরকীয়ার বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা আত্মহত্যার কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাননি। তাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
নিহত ছবি রানীর ভাতিজা মানস কুমার জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মা-মেয়ের মরদেহ ফাঁস থেকে নামানো অবস্থায় দেখতে পান। তার ভাষ্য, ঘটনাটি তাদের কাছে হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হয়েছে।
অন্যদিকে রিপেন চন্দ্র রায়ের ভাই গৌতম চন্দ্র রায় দাবি করেন, কয়েকদিন আগে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি থেকে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। লোকলজ্জার কারণে ছবি রানী ও পল্লবী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে তিনি ধারণা করছেন।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাটির সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।”
প্রকাশক: দৈনিক বাংলার সংবাদ
প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ মশিউর ইসলাম
তারিখ: ১৮ জুলাই ২০২৬
মোবাইল: ০১৭৭৪৭০০৪৬০

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

পার্বতীপুরে মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৭:৪১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কালিরহাট ছোট চণ্ডিপুর গ্রামে মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনাকে রহস্যজনক দাবি করে বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতদের স্বজনরা। তারা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত গৃহবধূ ছবি রানী রায়ের ভাই উজ্জ্বল চন্দ্র রায়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, নিহত ছবি রানী রায় (৩৫) ও তার মেয়ে পল্লবী রানী রায়কে (১৪) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী রিপেন চন্দ্র রায় পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে অন্য এক নারীকে ঘরে তোলার উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছেন। এ ঘটনায় একই গ্রামের আরও দুজন সহযোগী জড়িত থাকতে পারেন বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পল্লবী রানী স্থানীয় গোল্ডেন হোপ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। একই শ্রেণির শিক্ষার্থী ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের দুজারপুর গ্রামের গৌর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৯ জুন গৌর চন্দ্র পল্লবীকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান এবং সেখানে তারা বিয়ে করেন বলে দাবি করা হয়। সে সময় পল্লবীর মা ছবি রানীও তাদের সঙ্গে ছিলেন। পরে স্ত্রী ও মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে রিপেন চন্দ্র রায় পার্বতীপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ২৬ জুন পুলিশ ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে উভয় পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করে।
উজ্জ্বল চন্দ্র রায় আরও বলেন, তার বোনের সঙ্গে স্বামীর পরকীয়ার বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা আত্মহত্যার কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাননি। তাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
নিহত ছবি রানীর ভাতিজা মানস কুমার জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মা-মেয়ের মরদেহ ফাঁস থেকে নামানো অবস্থায় দেখতে পান। তার ভাষ্য, ঘটনাটি তাদের কাছে হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হয়েছে।
অন্যদিকে রিপেন চন্দ্র রায়ের ভাই গৌতম চন্দ্র রায় দাবি করেন, কয়েকদিন আগে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি থেকে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। লোকলজ্জার কারণে ছবি রানী ও পল্লবী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে তিনি ধারণা করছেন।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাটির সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।”
প্রকাশক: দৈনিক বাংলার সংবাদ
প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ মশিউর ইসলাম
তারিখ: ১৮ জুলাই ২০২৬
মোবাইল: ০১৭৭৪৭০০৪৬০