ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানকে রাজি করাতে বাংলাদেশকে পাশে চাইছে আইসিসি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 45

পাকিস্তানকে রাজি করাতে বাংলাদেশকে পাশে চাইছে আইসিসি

বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেলেও আইসিসি যেন দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছে না। একের পর এক বিতর্কে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কর্তারা আছেন প্রবল চাপে। সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তানকে রাজি করানোর চেষ্টা এখনো চলমান। গুঞ্জন আছে, শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি খেলতে পারে পাকিস্তান।

গতকাল দিনভর বিষয়টি নিয়েই আলোচনা চলে। আলোচনায় আরো নতুন মাত্রা যোগ করেন ঝটিকা সফরে লাহোরে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম।

পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, পারস্পরিক সমঝোতার উদ্দেশ্যেই আমিনুলের লাহোরে যাওয়া। সেই সমঝোতা কেমন হতে পারে, সেটিও ব্যাখ্যা করেছে সূত্রটি।

 বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যেহেতু পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে রাজি করাতে বাংলাদেশকে পাশে চাইছে আইসিসি। এতে বাংলাদেশেরও লাভ রয়েছে। বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় বাংলাদেশের যে সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা ছিল, সেগুলো থেকে মুক্তি মিলতে পারে। যেমন—আইসিসির বার্ষিক রাজস্ব থেকে প্রাপ্য অর্থ পাওয়া কিংবা ভবিষ্যতে বিদেশি দলগুলোর বাংলাদেশ সফর নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি না করার নিশ্চয়তা।
 এটিকেই ‘পারস্পরিক সমঝোতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই বৈঠকের জন্যই পরশু রাতে হঠাৎ করে জরুরি বার্তা পান আমিনুল। সেটি পেয়েই মধ্যরাতে লাহোরের উদ্দেশে রওনা দেন বিসিবি সভাপতি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানায়, গতকাল ভোরে লাহোরে পৌঁছেন তিনি। সেখানে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান নাসির তাঁকে স্বাগত জানান।

পিসিবির ফেসবুক পেজে আমিনুলকে স্বাগত জানানোর একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, যার ক্যাপশনে সালমান নাসিরকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, ‘সম্মানিত অতিথিকে আমরা আন্তরিকভাবে পাকিস্তানে স্বাগত জানিয়েছি।’

আইসিসির এই জরুরি বৈঠকে পাকিস্তানের পাশাপাশি অন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। এর মধ্যে বাংলাদেশও ছিল। বাংলাদেশের উপস্থিতির কারণটি বেশ স্পষ্ট। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে খেলতে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই আলোচনার সূত্রপাত। আলোচনা এত দূর গড়ায় যে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপেই অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। এই পুরো ঘটনায় শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছিল পাকিস্তান। আইসিসির ভোটাভুটিতে নিজেদের ভোটের বাইরে বাংলাদেশ যে একটি ভোট পেয়েছিল, সেটিও পাকিস্তানের। এখানেই শেষ নয়—পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রথমে জানা যায়, বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তানও। যদিও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি, তবে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কটের সিদ্ধান্তের কথা জানায় পাকিস্তান সরকার।

এই সিদ্ধান্তের পর ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, আইসিসি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় রাজি করানোর চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ায় আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের এই প্রতিনিধিকে পিসিবির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আইসিসি। পাকিস্তানের অনড় অবস্থানের পরই গতকাল আইসিসির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আইসিসির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের আগে পিসিবির চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গেও সভায় বসেন আমিনুল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

পাকিস্তানকে রাজি করাতে বাংলাদেশকে পাশে চাইছে আইসিসি

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেলেও আইসিসি যেন দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছে না। একের পর এক বিতর্কে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কর্তারা আছেন প্রবল চাপে। সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তানকে রাজি করানোর চেষ্টা এখনো চলমান। গুঞ্জন আছে, শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি খেলতে পারে পাকিস্তান।

গতকাল দিনভর বিষয়টি নিয়েই আলোচনা চলে। আলোচনায় আরো নতুন মাত্রা যোগ করেন ঝটিকা সফরে লাহোরে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম।

পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, পারস্পরিক সমঝোতার উদ্দেশ্যেই আমিনুলের লাহোরে যাওয়া। সেই সমঝোতা কেমন হতে পারে, সেটিও ব্যাখ্যা করেছে সূত্রটি।

 বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যেহেতু পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে রাজি করাতে বাংলাদেশকে পাশে চাইছে আইসিসি। এতে বাংলাদেশেরও লাভ রয়েছে। বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় বাংলাদেশের যে সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা ছিল, সেগুলো থেকে মুক্তি মিলতে পারে। যেমন—আইসিসির বার্ষিক রাজস্ব থেকে প্রাপ্য অর্থ পাওয়া কিংবা ভবিষ্যতে বিদেশি দলগুলোর বাংলাদেশ সফর নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি না করার নিশ্চয়তা।
 এটিকেই ‘পারস্পরিক সমঝোতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই বৈঠকের জন্যই পরশু রাতে হঠাৎ করে জরুরি বার্তা পান আমিনুল। সেটি পেয়েই মধ্যরাতে লাহোরের উদ্দেশে রওনা দেন বিসিবি সভাপতি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানায়, গতকাল ভোরে লাহোরে পৌঁছেন তিনি। সেখানে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান নাসির তাঁকে স্বাগত জানান।

পিসিবির ফেসবুক পেজে আমিনুলকে স্বাগত জানানোর একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, যার ক্যাপশনে সালমান নাসিরকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, ‘সম্মানিত অতিথিকে আমরা আন্তরিকভাবে পাকিস্তানে স্বাগত জানিয়েছি।’

আইসিসির এই জরুরি বৈঠকে পাকিস্তানের পাশাপাশি অন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। এর মধ্যে বাংলাদেশও ছিল। বাংলাদেশের উপস্থিতির কারণটি বেশ স্পষ্ট। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে খেলতে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই আলোচনার সূত্রপাত। আলোচনা এত দূর গড়ায় যে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপেই অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। এই পুরো ঘটনায় শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছিল পাকিস্তান। আইসিসির ভোটাভুটিতে নিজেদের ভোটের বাইরে বাংলাদেশ যে একটি ভোট পেয়েছিল, সেটিও পাকিস্তানের। এখানেই শেষ নয়—পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রথমে জানা যায়, বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তানও। যদিও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি, তবে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কটের সিদ্ধান্তের কথা জানায় পাকিস্তান সরকার।

এই সিদ্ধান্তের পর ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, আইসিসি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় রাজি করানোর চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ায় আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের এই প্রতিনিধিকে পিসিবির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আইসিসি। পাকিস্তানের অনড় অবস্থানের পরই গতকাল আইসিসির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আইসিসির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের আগে পিসিবির চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গেও সভায় বসেন আমিনুল।