নওগাঁর বদলগাছীতে পাওনা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়ে পাওনাদারের বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে আল মাহমুদ আচাব (৪২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় পাওনাদার ছানোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত আল মাহমুদ আচাব বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের হলুদবিহার গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি এলাকায় একটি এনজিও পরিচালনা করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির পর আল মাহমুদ আচাব তাঁর আত্মীয় ছানোয়ার হোসেনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১৩ লাখ টাকা ধার নেন। এর মধ্যে এনজিওর প্রয়োজনে এবং পরবর্তীতে ইতালি পাঠানোর কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন পার হলেও টাকা পরিশোধ না করায় ছানোয়ার হোসেন পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আচাব নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন বলে অভিযোগ।
একপর্যায়ে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য ছানোয়ার হোসেন আদালতের দ্বারস্থ হন। এরপর আচাব হঠাৎ নিখোঁজ হন এবং তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান ও পারিবারিকভাবে আলোচনা হলে পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
পরে আচাবের বড় বোন নাজমা বেগমের উদ্যোগে উভয় পক্ষকে নিয়ে পারিবারিকভাবে সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আচাব তাঁর ভুল স্বীকার করেন এবং ৪৫ দিনের মধ্যে পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে উভয় পক্ষের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
তবে এর পরও ছানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করা হয় বলে অভিযোগ। ওই মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
ছানোয়ার হোসেনের স্ত্রী নাসিমা আক্তার বলেন, “আচাব আমাদের আত্মীয়। আমার স্বামী সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর পেনশনের টাকা পেলে এনজিওর প্রয়োজনে প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা নেন তিনি। পরে ইতালি পাঠানোর কথা বলে আরও আট লাখ টাকা নেন। কিন্তু তিনি কাউকে ইতালি পাঠাতে পারেননি, আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। এখন উল্টো অপহরণের নাটক সাজিয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় আমার স্বামী জেলে রয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই। আমার স্বামীকে জামিন দেওয়ার পাশাপাশি পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”
কোলা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন হোসেন বলেন, “ছানোয়ার হোসেন আচাবের কাছে টাকা পাবেন—এটি এলাকায় অনেকেই জানেন। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তিনি আদালতে মামলা করেছেন। এখন আচাবের বিরুদ্ধে অপহরণ নাটক সাজিয়ে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন।”
অভিযোগের বিষয়ে আল মাহমুদ আচাবের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি ফোনে কথা বলতে আগ্রহী নই, সাক্ষাতে কথা হবে।” পরে তিনি কত টাকা নিয়েছেন—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নওগাঁ সদর থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহিন বলেন, “মামলার বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।”
মামলার অভিযোগ ও ঘটনার প্রকৃত সত্য তদন্ত শেষে নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফিরোজ আহম্মেদ নওগাঁ প্রতিনিধি: 



















