ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পথে অনৈতিক চাঁদাবাজি ও পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে উত্তাল সরাইলের অরুয়াইল বাজার: তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নৌ পরিবহন ঐক্য পরিষদের প্রতিবাদ সভা ও মানব বন্ধন অতিসত্বর হয়রানি বন্ধ না হলে নৌপথ অচল করার হুমকি মালিক ও শ্রমিক নেতাদের।

 

নৌ-পথে দীর্ঘদিন ধরে চলমান চরম অনৈতিক চাঁদাবাজি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও নৌ পুলিশের অহেতুক হয়রানির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা। আজ ১১ জুলাই (শনিবার) সরাইলের ঐতিহ্যবাহী আব্দুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-কিশোরগঞ্জ নৌ পরিবহন ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে এক বিশাল প্রতিবাদ সভা ও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
​অরুয়াল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মাজহার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রতিবাদ ও মানব বন্ধন সভায় প্রধান ও বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাজিতপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শীর্ষস্থানীয় মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
​বক্তব্য প্রদানকালে বাজিতপুর বাল্কহেড নৌ-যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ এবং বাজিতপুর শ্রমিক সমিতির সভাপতি মোঃ কফিল উদ্দিন বলেন, “আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে সৎ পথে রুটি-রুজির ব্যবস্থা করি। আমরা কোনো অপরাধী বা চোর-ডাকাত নই। ঘাটে ঘাটে এই জুলুম আর চাঁদাবাজি যদি অবিলম্বে বন্ধ করা না হয়, তবে আমরা সাধারণ মেহনতি শ্রমিকদের সাথে নিয়ে নদীপথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হব।”
​সমাবেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়ীয়া মালিক সমিতির সভাপতি হাজী নবাব মিয়া, অপর সভাপতি আব্দুল খালেক,বাজিতপুর মালিক সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ এনামুল হক। নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, একদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে নৌযান ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে এই মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে চেপে বসেছে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য। বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরেও বিআইডব্লিউটিএ-র কিছু কর্মকর্তা এবং নৌ-পুলিশের কিছু সদস্য সাধারণ শ্রমিক ও মাঝিদের নানা অজুহাতে অর্থ দিতে বাধ্য করছেন। এর ফলে সাধারণ শ্রমিকদের পরিবারগুলো আজ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
​সমাবেশ থেকে শ্রমিক ও মালিক নেতারা যৌথভাবে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিন দফা দাবি পেশ করেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-কিশোরগঞ্জ নৌপথের সকল অবৈধ চাদাবাজি স্পট উচ্ছেদ করা, বিআইডব্লিউটিএ ও পুলিশের অনৈতিক হয়রানি বন্ধ করা এবং নৌপথে সাধারণ চালক ও শ্রমিকদের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
​উক্ত প্রতিবাদ সভায় বিভিন্ন অঞ্চলের আরও বহু শ্রমিক ও মালিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে এই দাবিগুলোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং যেকোনো কঠোর কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ নেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে স্থানীয় প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মানব বন্ধন এর মাধ্যমে শেষ হয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, যদি প্রশাসন দ্রুত এই বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে অঞ্চলের পণ্য পরিবহন ও নৌযোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

পথে অনৈতিক চাঁদাবাজি ও পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে উত্তাল সরাইলের অরুয়াইল বাজার: তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নৌ পরিবহন ঐক্য পরিষদের প্রতিবাদ সভা ও মানব বন্ধন অতিসত্বর হয়রানি বন্ধ না হলে নৌপথ অচল করার হুমকি মালিক ও শ্রমিক নেতাদের।

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

 

নৌ-পথে দীর্ঘদিন ধরে চলমান চরম অনৈতিক চাঁদাবাজি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও নৌ পুলিশের অহেতুক হয়রানির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা। আজ ১১ জুলাই (শনিবার) সরাইলের ঐতিহ্যবাহী আব্দুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-কিশোরগঞ্জ নৌ পরিবহন ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে এক বিশাল প্রতিবাদ সভা ও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
​অরুয়াল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মাজহার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রতিবাদ ও মানব বন্ধন সভায় প্রধান ও বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাজিতপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শীর্ষস্থানীয় মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
​বক্তব্য প্রদানকালে বাজিতপুর বাল্কহেড নৌ-যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ এবং বাজিতপুর শ্রমিক সমিতির সভাপতি মোঃ কফিল উদ্দিন বলেন, “আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে সৎ পথে রুটি-রুজির ব্যবস্থা করি। আমরা কোনো অপরাধী বা চোর-ডাকাত নই। ঘাটে ঘাটে এই জুলুম আর চাঁদাবাজি যদি অবিলম্বে বন্ধ করা না হয়, তবে আমরা সাধারণ মেহনতি শ্রমিকদের সাথে নিয়ে নদীপথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হব।”
​সমাবেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়ীয়া মালিক সমিতির সভাপতি হাজী নবাব মিয়া, অপর সভাপতি আব্দুল খালেক,বাজিতপুর মালিক সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ এনামুল হক। নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, একদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে নৌযান ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে এই মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে চেপে বসেছে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য। বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরেও বিআইডব্লিউটিএ-র কিছু কর্মকর্তা এবং নৌ-পুলিশের কিছু সদস্য সাধারণ শ্রমিক ও মাঝিদের নানা অজুহাতে অর্থ দিতে বাধ্য করছেন। এর ফলে সাধারণ শ্রমিকদের পরিবারগুলো আজ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
​সমাবেশ থেকে শ্রমিক ও মালিক নেতারা যৌথভাবে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিন দফা দাবি পেশ করেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-কিশোরগঞ্জ নৌপথের সকল অবৈধ চাদাবাজি স্পট উচ্ছেদ করা, বিআইডব্লিউটিএ ও পুলিশের অনৈতিক হয়রানি বন্ধ করা এবং নৌপথে সাধারণ চালক ও শ্রমিকদের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
​উক্ত প্রতিবাদ সভায় বিভিন্ন অঞ্চলের আরও বহু শ্রমিক ও মালিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে এই দাবিগুলোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং যেকোনো কঠোর কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ নেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে স্থানীয় প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মানব বন্ধন এর মাধ্যমে শেষ হয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, যদি প্রশাসন দ্রুত এই বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে অঞ্চলের পণ্য পরিবহন ও নৌযোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।