পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মনিরুজ্জমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, প্রশাসনিক কার্যক্রমে চরম দায়িত্ব অবহেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে কলেজে অনুমোদিত পদ না থাকা সত্ত্বেও এক চিকিৎসককে উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রফেসর ডা. মনিরুজ্জমান ছাত্রজীবনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরিশাল বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
তিনি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। কলেজ সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২১ মে পর্যন্ত তিনি ৩০ দিনেরও বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। শুধু তাই নয়, অধিকাংশ শনিবার তিনি তার কর্মস্থলে আসেন না এবং সপ্তাহের বাকি কার্যদিবসগুলোতেও দুপুরের পরপরই তিনি বরিশাল ফিরে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। তার এমন লাগামহীন অনুপস্থিতির কারণে কলেজের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আরও জানা গেছে, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের অনুমোদিত জনবল কাঠামোয় কোনো ‘উপাধ্যক্ষ’ পদ নেই। অথচ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ডা. এ এফ এম আতিকুর রহমানকে উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কলেজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বয় রক্ষার মূল দায়িত্বও তার মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা সম্পূর্ণ বিধি-বহির্ভূত।
অধ্যক্ষের এমন স্বেচ্ছাচারিতা, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং নিয়মিত কর্মস্থলে না থাকার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই । এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা ও দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির অভিযোগ
-
মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার - আপডেট সময় : ১০:৩৬:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
- 69
জনপ্রিয় সংবাদ


























